ট্রাম্পের রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে গিয়েছিল’

করোনা আক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা নিয়ে খোদ তার, তার চিকিৎসক এবং হোয়াইট হাউজ থেকে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (৩ অক্টোবর) জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা এখন ভালো, তবে সামনের দিনগুলোতে ‘আসল পরীক্ষা’।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ মার্ক মিডোস। তিনি বলেন, শুক্রবার (২ অক্টোবর) মার্কিন প্রেসিডেন্টের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সরকারিভাবে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল, আসলে বাস্তব পরিস্থিতি তারচেয়েও গুরুতর ছিল। ওইদিন ট্রাম্পের জ্বর ছাড়াও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে গিয়েছিল। যে কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শে ট্রাম্পকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালে যাওয়ার পর ট্রাম্পের অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং আগের দিনের তুলনায় শনিবার প্রেসিডেন্টের অবস্থার বেশ খানিকটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিডোস।

ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিডোস এসব কথা জানান। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে মিডোসের এই সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়।

রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, শনিবার সকালেও আমরা এটি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম। তার জ্বর ছিল এবং অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছিল। তারপরও প্রেসিডেন্ট স্বাভাবিকভাবেই উঠে দাঁড়াচ্ছিলেন এবং চলাফেরা করছিলেন।

তার এই মন্তব্য করোনা আক্রান্ত ৭৪ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের দেয়া তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এর আগে, শুক্রবার হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মিডোস জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শরীরে করোনা মৃদু উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি হোয়াইট হাউসের কাজ স্বাভাবিকভাবে করেছেন।

পরে ওয়াল্টার রিড এবং জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা প্রেসিডেন্টকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন।

মিডোস বলেন, চিকিৎসক-সহ আমাদের অনেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগে থাকলেও শনিবার সকাল থেকে তার অবিশ্বাস্য উন্নতি ঘটছে।

এদিকে হোয়াইট হাউসের জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, ট্রাম্প খুব ভালো অনুভব করছেন এবং হোয়াইট হাউসে আবার কাজ করতে চান; তবে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর এক টুইটে ট্রাম্প নিজেই তার এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়ার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর দিয়েছিলেন।