একসাথে ২০ জনের সাথে প্রেম, বগুড়ায় কলেজ ছাত্র গ্রেফতার

তানজিমুল ইসলাম রিয়ন। ২২ বছর বয়সী এই যুবক বগুড়ার দুপচাঁচিয়া জেকে কলেজে বিএসএস ১ম বর্ষে পড়াশোনা করছে। এর ফাঁকে ফেসবুক ব্যবহার করে একসাথে ২০ জনেরও বেশি মেয়ের সাথে প্রেম করেছে এই কলেজ ছাত্র। শুধু তাই নয় ফাঁদে ফেলে টাকা পয়সা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়েও নেয় সে। অবশেষে শেষ রক্ষা হল না তার। বগুড়া শহরের এক স্কুলছাত্রীর এমনই এক অভিযোগে সাইবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতার রিয়ন নওগাঁ সদর উপজেলার চকদেবপাড়ার মৃত তাজুল ইসলাম কবিরাজের ছেলে। সে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার চৌধুরীপাড়ায় তার নানা আবু সাঈদ ফকিরের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতো। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, তানজিমুল ইসলাম রিয়ন নামের ওই যুবক প্রেমের অভিনয় করে মেয়েদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে গিয়ে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে তাদের মেসেঞ্জারে ওই সব ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেল করে টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিতেন।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত রিয়ন বগুড়া শহরের এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর ভিডিও কল করে ওই স্কুলছাত্রীর বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরে তার মেসেঞ্জারে সেগুলো পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেল করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেন।

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে বগুড়া সদর থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই রাতেই সাইবার পুলিশের পরিদর্শক এমরান মাহমুদ তুহিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ দুপচাঁচিয়া থেকে রিয়নকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ পরিদর্শক এমরান মাহমুদ তুহিন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং তার জব্দকৃত ডিভাইস চেক করে দেখা যায়, রিয়নের সঙ্গে অনেক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক আছে। এর মধ্যে ২০ জনের অধিক মেয়ের অশ্লীল স্থিরচিত্র এবং ভিডিওচিত্র তার কাছে সংরক্ষিত আছে।

তিনি বলেন, মেয়েদের সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও কলে কথা বলার সময় সে স্ক্রিন রেকর্ডারের মাধ্যমে ভিডিওচিত্র ও স্থিরচিত্র ধারণ করে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেল করে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিতেন। রিয়নকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।