প্রে’মের টানে বাংলাদেশে: কারো সংসার টিকেছে, কেউ পালিয়েছে

মাস তিনেক পর আবার বাংলাদেশে ছুটে আসেন সুপুত্তো। এ যাত্রায় অনিকের পরিবারের সম্মতি পেয়ে যান তিনি। মু’সলমান হলেন, নাম পাল্টে রাখলেন সুফিয়া খাতুন। নাটোরের আ’দালতে বিয়ে হলো।

৩৬ বছর বয়সী সুফিয়া থাকেন থাইল্যান্ডেই। এখন ফাস্ট ফুডের ব্যবসা করেন। এদিকে নওগাঁয় অনিক ইলেকট্রনিকস পণ্যের একটি দোকান চালান। শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেন সুফিয়া। বছরে বার দুয়েক নওগাঁ আসেন।

ফিরে গেলেন জুলিজা

প্রে’মের কারণে মালয়েশিয়া ছেড়ে টাঙ্গাইলের সখীপুরের মনিরুল ইস’লামের কাছে ছুটে এসেছিলেন জুলিজা বিনতে কামিস। ফেসবুকে প্রে’মের সূচনা। ২০১৭ সালে বিয়ে হয় তাঁদের। তবে মনিরুলের কপালে সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

বিয়ের সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে জানতে পারেন, মালয়েশিয়ায় জুলিজার আরও একটি সংসার রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, মালয়েশীয় তরুণী জুলিজার আগের স্বামীও একজন বাংলাদেশি। মনিরুল ও জুলিজার বিয়ের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এলে সেটি নজরে আসে জুলিজার প্রথম স্বামী আজগরের। এরপর আজগর ও তাঁর পরিবার মনিরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। মনিরুল জানতে পারেন, মালয়েশিয়ায় জুলিজার স্বামী ও চার সন্তানের সংসার। বাংলাদেশে আসার ১৭ দিনের মা’থায় প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যান জুলিজা।

একত্রে বসবাস রুবেল আর এভিলার

জীবিকার তাগিদে সিঙ্গাপুরে প্রবাসজীবন শুরু করেন কুড়িগ্রামের ছে’লে রুবেল। চাকরি নেন কাচের কারখানায়। একই কারখানায় রুবেলের মতোই প্রবাসী শ্রমিক ছিলেন ফিলিপাইনের ফ্লোডিলিজ এভিলা টপিয়া। এই পরিচয়ের সূত্র ধরেই ভালোবাসার ফানুস ওড়ান দুজনে। তবে ভালোবাসার আকাশে কালো মেঘের ছায়া দেখা দেয় রুবেলের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে এলে। ২০১৭ সালে বাধ্য হয়ে দেশে ফেরেন রুবেল। তবে ফেসবুক আর মুঠোফোনে যোগাযোগ চলতে থাকে তাঁদের।

এভাবে কে’টে যায় প্রায় এক বছর। অবশেষে দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নেন, বিয়েটা করেই ফেলবেন। ২০১৮ সালের মা’র্চে ঢাকায় আসেন এভিলা। ২৫ মা’র্চ ঢাকায় বিয়ে করেন এই যুগল। বিয়ের পর বউকে নিয়ে কুড়িগ্রামে যান রুবেল। বর্তমানে রুবেল ও এভিলা থাকেন সিঙ্গাপুরে।

আত্মগো’পনে সঞ্জনা ও লাবু

প্রে’মের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০১৮ সালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজে’লার জামালপুর সীমান্তে বিজিবি আর বিএসএফের এক পতাকা বৈঠক বসে। উদ্দেশ্য ভা’রত থেকে চলে আসা সঞ্জনা বিশ্বা’সকে ফিরিয়ে নেওয়া। ভা’রতের চর মেঘনা আর এই নদী দুটি দেশকে আলাদা করলেও ভা’রতের সঞ্জনা আর বাংলাদেশের লাবু মিয়াকে একই সুতোয় বেঁধেছে। কারণ, এই নদী পেরিয়েই ১৩ সেপ্টেম্বর ভা’রতের চর মেঘনা থেকে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েন সঞ্জনা বিশ্বা’স। এরপর প্রে’মিক লাবুর বাড়িতে ওঠেন তিনি।

এদিকে সঞ্জনাকে খুঁজতে বিএসএফ আর বিজিবির মধ্যে চিঠি আদান-প্রদান চলে। তবে এরই মধ্যে বিয়ে করে ফেলেন এই প্রে’মিকযুগল। বিয়ে করেই আত্মগো’পনে চলে যান তাঁরা। সর্বশেষ লাবু মিয়ার পরিবার জানায়, তাঁরা দুজন একসঙ্গেই আছেন। তবে পরিবার ঠিকানা জানে না।