যেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি ডা. সাবরিনা

করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা আরিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁও থানায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি ডা. সাবরিনা। তাই তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ। রবিবার (১৩ জুলাই) ডা. সাবরিনাকে গ্রেফতারের পর ডিসি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিসি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ডা. সাবরিনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনি জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান কি না? তিনি বলেন, না আমি কখনই চেয়ারম্যান না। তারপর আমি বললাম, তিতুমীর কলেজে দাঁড়িয়ে আপনি জেকেজির পক্ষে কথা বললেন কেন? তিনি বলেন, আমার স্বামী আমাকে বলতে বলেছিলো। তারপর তাকে আরও প্রশ্ন করা হয় কিন্তু তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।’

এ সময় ডিসি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, মামলার তদন্তের জন্য তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। সোমবার তাকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাইবে পুলিশ। এর আগে রবিবার দুপুর সোয়া ১টায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তেজগাঁও বিভাগীয় উপ-পুলিশ (ডিসি) কার্যালয়ে আনা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন জেকেজির প্রতারণা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিসিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দুই ঘণ্টা পর বিকালে সোয়া ৩টার দিকে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

ডা. সাবরিনা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক। তবে তিনি গণমাধ্যমে নিজেকে জেকেজির ‘চেয়ারম্যান নয়’ বরং প্রতিষ্ঠানটির ‘কোভিড-১৯ বিষয়ক পরামর্শক’ দাবি করেছেন। তবে পুলিশের তদন্ত বলছে, সাবরিনাই জেকেজির চেয়ারম্যান।

জেকেজির ব্যাপারে তদন্ত করে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে কোনো পরীক্ষা না করেই প্রতিষ্ঠানটি ১৫ হাজার ৪৬০ জনকে করোনার টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহ করেছে। একটি ল্যাপটপ থেকে গুলশানে তাদের অফিসের ১৫ তলার ফ্লোর থেকে এই মনগড়া করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন তৈরি করে হাজার হাজার মানুষের মেইলে পাঠায় তারা।