এসআই তাজুলের ব্যতিক্রম বিদায়, হেঁটে হেঁটে চাইলেন সবার দোয়া

নিজেই ছুটে যাচ্ছেন, আবার কেউ ইচ্ছা করে এগিয়ে আসছেন। তবে কেউ বিরক্ত হচ্ছেন না। একে অপরের দিকে যেন ফেল ফেল করে তাকিয়ে আছেন। সবার মুখে যেন ফুটে উঠেছে বেদনার ছাপ।

বদলি হওয়ার কারণে সবার কাছে থেকে দোয়া নিতে ছুটে চলেছেন রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, চালক, ফল বিক্রেতাসহ নানা শ্রেণিপেশার লোকজনের কাছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার এসআই মো. তাজুল ইসলাম অন্যত্র বদলির আদেশ পাওয়ার পর বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের কাছ থেকে দোয়া চেয়ে বিদায় নিচ্ছেন।

তার এ বিদায় ছোট বড় সবার প্রশংসা কুড়াচ্ছে। এদিকে অন্যত্র বদলি হওয়ায় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাকে সংবর্ধনা দেয়।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তিনি সড়ক বাজার এলাকায় বিভিন্ন দোকান পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক, সামাজিক সংগঠনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকদের কাছ থেকে তিনি হেঁটে হেঁটে গিয়ে বিদায় নেন। এতে বাদ যায়নি রাজনীতিবিদ, শিক্ষক ও সাংবাদিক।

এ বিদায় নেওয়ার সময় সবার কাছে তিনি দোয়া চান। দীর্ঘদিন আখাউড়া থাকায় তার এ বিদায়ে অনেকেই মর্মাহত হন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে তিনি পুলিশ সদস্য পদে যোগদান করেন। এরপর তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করেন। এরপর তিনি ২০১৮ সালের শেষের দিকে তিনি বদলি হয়ে আখাউড়ায় আসেন।

আখাউড়া থেকে তিনি বদলি হন সরাইলে। আগামী দু’এক দিনের মধ্যে সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে যাওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি তার শেষ হয়েছে।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বদলি হওয়ায় তিনি সবার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার পাশাপাশি দোয়া চেয়েছেন। এই প্রথম কোনো পুলিশ সদস্য এভাবে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষে কাছে গিয়ে দোয়া চেয়ে বিদায় নেন।

জানা যায়, এ পুলিশ সদস্য করোনার শুরু থেকেই আখাউড়ায় জীবন বাজি রেখে রাত দিন পরিশ্রম করেন। তিনি কখনো কর্তব্যে অবহেলা করেননি।

তাছাড়া শহরের যানজট নিরসনে তিনি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেন। সড়ক বাজারের ব্যবসায়ী মো. এরফান মিয়া বলেন, তাজুল ইসলাম একজন ভালো মানুষ। দায়িত্ব ছিল তার কাছে সবচেয়ে বড়। সড়ক বাজারের যানজন মুক্ত রাখতে নিবেদিত হয়ে কাজ করেছেন।

মো. বিল্লাল মিয়া বলেন, এভাবে কোনো পুলিশকে দায়িত্ববান হয়ে কাজ করতে দেখিনি। এই পুলিশ সদস্য নিষ্ঠার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করেছেন। সব সময় ভালো উপদেশ দিতেন।

মো. ফরিদ মিয়া বলেন, পৌর এলাকায় যানজট বড় একটি সমস্যা। কিন্তু তাজুল ইসলামকে দেখা মাত্র রাস্তা অনেকটা ফাঁকা হয়ে যেতো।

এসআই মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের চাকরি হলো বদলীজনিত চাকরি। উপরের নির্দেশে আজ এখানে কাল ওখানে যেতে হয়। কর্তব্য পালনে কখনো অবহেলা করেনি। সব সময় মানুষের মঙ্গল চেয়ে ভালো কাজ করতে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।