লোভ দেখিয়ে ছাত্রদের সাথে শা’’রী’রি’ক সম্প’র্কে বা’ধ্য করতেন শিক্ষিকা

পাস করতে চাও? তাহলে অবসরে আমা’র বাসায় এসো।’ এভাবেই ছাত্রদের নিজের বাড়িতে ডেকে নিতেন এক স্কুল শিক্ষিকা। যে ছাত্র বাসায় যেতে রাজি হন না, তাকে ফে’ল করিয়ে দিতেন তিনি।

ঘ’টনাটি ঘটেছে কলম্বিয়ায়। খবর ডেইলি মেইল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই শিক্ষিকার নাম ইওকাসতা।ব’য়স চল্লিশেরও বেশি। ওই শিক্ষিকা শুধু পাস করানোর জন্যই নয়, ভালো ফলাফলের লো’ভ দেখিয়েও ছাত্রদের বাড়িতে ডেকে নিতেন।

রাজি না হলে ফেল করিয়ে দেয়ার ভ’য় দেখাতেন তিনি। শুধু তাই নয়, ছেলেদের ওয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে গভীর রাতে ওই শিক্ষিকা যেসব ছবি পাঠাতেন তা অবশ্য বর্ণনার যোগ্য নয়।

শিক্ষিকার এই অনাচার এক ছাত্রের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ঘ’টনা প্রকাশের পর ইওকাসতার স্বা’মী তাকে ডি*ভোর্স দিয়ে দিয়েছেন।

ছাত্রদের ও’পর যৌ’ন হয়’রানির অ’ভিযোগে ইওকাসতাকে ৪০ বছরের কারাদ’ণ্ড দিয়েছে দেশটির আ’দালত

চাচা-চাচি বিক্রি করে দেওয়ার ১২ বছর পর বাবা-মাকে ফিরে পেলেন জোসনা!

এটি কোনো সিনেমার গল্প নয়। বাস্তব গল্প। এক যুগ পর নোয়াখালীর সেনবাগে ডুমুরুয়াতে বাবা-মায়ের দেখা পেলেন নাছিমা আক্তার জোসনা। দীর্ঘ একযুগ পর হা’রিয়ে যাওয়া আদরের স’ন্তানকে পেয়ে পরিবারে আ’নন্দের বন্যা বইছে। প্রতিদিন এলাকার মানুষজনও দেখতে আসছেন জোসনাকে।

কিন্তু জোসনা শা’রীরিক ও মা’নসিকভাবে অনেকটা বিপর্য’স্ত, ক্লান্ত। তার জীবনের ক’ষ্টের গল্প শুনে কাঁ’দছেন সবাই। জোসনা পরিবারকে জানিয়েছেন, দুই লাখ টাকায় তাকে এক আত্মীয়ের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন তার চাচা-চাচি।

পরিবার ও কয়েকজন গ্রামবাসীর স’ঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নোয়াখালীর সেনবাগ উপজে’লার ৩ নম্বর ডমুরুয়া ইউনিয়নের পরীকোট গ্রামের আবদুল মালেকের প্রথম সংসারের বড় মে’য়ে ছিল নাছিমা আক্তার জোসনা। ২০০৮ সালে ১৫ জুলাই ১১ বছর ব’য়সী মে’য়ে জোসনাকে রেখে দ্বিতীয় সংসারের মা ও অন্যান্য ভাইবোনরা বৈশাখী মেলায় যান।

মেলা থেকে সবাই ফিরে এসে তাকে ঘরে দেখতে না পেয়ে অনেক খো’জাঁখু’জি করেন। ওই সময় জোসনার চাচা, চাচি ও চাচাতো ভাই জানান, ইটভাটার শ্র’মিকদের স’ঙ্গে তাকে তারা চলে যেতে দেখেছেন। তখন বাড়ির পাশে ইটভাটা থেকে স’ন্দে’হভাজন দুজন নি’রপরাধ শ্র’মিককে ধ’রে এনে বেদম মা’রধ’র করা হলেও জোসনাকে আর পাওয়া যায়নি।

এত বছর পর মে’য়েকে ফিরে পেয়ে আ’নন্দে আ’ত্মহা’রা বাবা আবদুল মালেক। তিনি জানান, মে’য়ে নি’খোঁজ হওয়ার পর অনেক জায়গায় খুঁ’জেছেন। এলাকার হু’জুর থেকে শুরু করে যে যেখানে যেতে বলেছেন, মে’য়েকে পাওয়ার জন্য সেখানে গেছেন। অনেক টাকাও খরচ করেছেন এসব পথে।

কিন্তু মে’য়েকে পাওয়া যায়নি। থা’না পু’লিশে গিয়ে কোনো লাভ হবে না ভেবে থানায়ও যাননি। তবে সময় সময় মে’য়ে ফিরে আসবে এ আশায় মনকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। জোসনার মা (দ্বিতীয় পক্ষের) জহুরা বেগম বলেন, ‘তিনি জোসনাকে গ’র্ভে ধারণ না করলেও সে তার অন্যান্য ছেলেমে’য়ের মতো ছিল।

একস’ঙ্গে তার মে’য়ের স’ঙ্গে পঞ্চম শ্রেণিতে লেখাপড়া করত। মেলা থেকে এসে মে’য়েকে না পেয়ে অনেক জায়গায় খুঁ’জেছি কিন্তু কোথাও পাইনি। এর মধ্যে জোসনার চাচিসহ প্রতিবেশীরা তকে নানা ধরনের অ’পবাদ দিয়েছে। মানুষের দেয়া সব অ’পবাদ মুখ বুঝে করে স’হ্য করেছি।’

গত গত ৫ নভেম্বর নিজ বাড়িতে ফিরে আসতে স’ক্ষম নাছিমা আক্তার জোসনা। মে’য়েকে দেখে বাবা-মা প্রথম বিশ্বাস করতে পারেননি ১১ বছর ব’য়সে হা’রিয়ে যাওয়া এটি তাদের আদরের জোসনা। পরে জোসনা সব খুলে বলেন।

এক যুগ পর বাবা-মা, ভাই-বোনদের কাছে ফিরে আসতে পেরে খুশির শে’ষ নেই জোসনার। শোনান তার এতদিন নিখোঁ’জ থাকার গল্প। কা’ন্নাজ’ড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি জী’বনেও ভাবতে পারিনি আবার আমার পরিবারের লোকজনদের কাছে ফিরে আসতে পারব।

কারণ আমার চাচা, চাচি ও চাচাতো ভাই আমাকে ফুসলিয়ে ১২ বছর আগে তাদের এক আ’ত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। আমি তখন যেতে চাইনি। তারা বলেছিলেন, তোর মা, ভাই, বোনরা বাড়িতে আসার আগেই আমরা ফিরে আসব। পরে তাদের আ’ত্মীয়ের বাড়ি থেকে আমাকে গাড়িতে উঠিয়ে ফেনীতে এক বাসায় নিয়ে যান। সেখানে আমাকে রেখে তারা চলে আসেন।’

‘মাঝে মধ্যে চাচি ওই বাসায় গেলে আমি আসতে চাইলে আমাকে মা’রধর করা হতো। বাসার লোকজন বলতেন, তারা (চাচা-চাচি) আমাকে তাদের কাছে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে বেচে দিয়েছেন। আরও বলতেন, মাসে মাসে তোর চাচিকে টাকা দিই। বাসায় সব দারোয়ান ও সিসি ক্যামেরা ছিল। ওখান থেকে বের হয়ে আসার কোনো সুযোগ ছিল না। তারা সেখানে আমাকে শা’রীরিক ও মা’নসিকভাবে নি’র্যা*তন করতেন।’

‘আবার আমার চাচির প্ররোচনায় তারা আমাকে ওই বাসার কাজের ছেলের স’ঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেন। বিয়ে দেয়ার সময় আমার চাচা, চাচি ভু’য়া একটি জ’ন্মসনদ দেন। সে কাগজ থেকে আমি আমার গ্রামের ঠিকানা জানতে পারি এবং অনেক খোঁ’জাখুঁ’জি করে অবশে’ষে আমি আমার জ’ন্ম’দাতা বাবা, মা ও ভাইবোনদের কাছে আসতে পারি’-কথাগুলো বলেন জোসনা।

জোসনার পরিবারের স’ঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ ঘ’টনা জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে বি’ষয়টি স’মাধানের জন্য বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে চাচা ইদ্রিস মিয়া ও চাচি আফরোজা বেগম তাদের দো’ষ স্বী’কার করেন এবং জোসনার ভবি’ষ্যতের কথা চিন্তা করে তার নামে ১২ শতক জায়গা দেয়ার অ’ঙ্গীকার করেন।

কিন্তু পরে তা অ’স্বীকার করে উল্টো গ্রাম সালিশদার ও জোসনার পরিবারের সদস্যদের নামে সেনবাগ থা’নায় একটি মা’মলা দা’য়ের করেন। স্থানীয় ডুমুরুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়া হোসেন বলেন, এ অ’মানবিক ঘট’নার স’ঙ্গে জ’ড়িতদের দৃষ্টান্তমূ’লক শা’স্তি হওয়া উচিত। পরিষদের ভু’য়া জ’ন্মসনদ ব্যবহারকারীদের বি’রুদ্ধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণেরও আ’শ্বাস দেন তিনি।

নোয়াখালী জজ কো’র্টের আ’ইনজীবী সামছুল আলম শাফী জানান, পা’চারের শি’কার নাছিমা আক্তার জোসনা নিজ চাচা, চাচি ও চাচাতো ভাইসহ আরও কয়েকজনকে আ’সামি করে গত ১৭ নভেম্বর একট মা’মলা দা’য়ের করেছেন। মা’মলাটি পু’লিশ ব্যুরো অব ই’নভিস্টিগেশনকে (পিবিআই) ত’দন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন আ’দালত।

নোয়াখালী পু’লিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ঘ’টনাটি নিয়ে সেনবাগ থা’নায় ও আ’দালতে পাল্টাপাল্টি মা’মলা হয়েছে। বি’ষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপে’ক্ষভাবে ত’দন্ত করার জন্য অতিরিক্ত পু’লিশ সুপার বেগমগঞ্জ সার্কেল অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ত’দন্তে যাদের বি’রুদ্ধে অ’পরাধ প্র’মাণিত হবে তাদেকে আ’ইনের আওতায় আনা হবে।’