২০ থেকে ২৫ মিনিট ধরে র’ক্তক্ষ’রণ ব’ন্ধ ক’রা’র চেষ্টা ক’রে দিহান-অনুশকাহ

রাজধানীর কলাবাগানের মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকাহ নূর আমিনকে ধ’র্ষণ ও হ’ত্যার ঘটনা পুরো বর্ণনা করেছে অ’ভিযুক্ত প্রেমিক ফারদিন ইফতেখার দিহান।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর র’শিদের আ’দালতে ঘটনা নিয়ে এক ঘণ্টার বেশি সময় জবানব’ন্দি দেয় দিহান। জবানব’ন্দি অনুযায়ী, ধ’র্ষণের স’ঙ্গে একমাত্র দিহানই জড়িত। বাসা খালি থাকার সুবাদে শিক্ষার্থী আনুশকাহকে ফোনে ডাকে সে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় ওই শিক্ষার্থী কলাবাগানের লেক সার্কাসের ৬৩/৪, পান্থনিবাস-২ অ্যাপার্টমেন্টের দোতালার ডি-২ ফ্ল্যাটে আসে।ফ্ল্যাটের মালিক দিহানের বাবা আব্দুর রউফ সরকার ২০১২ সালে জে’লা রেজিস্ট্রার পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। রাজশাহীর দুর্গাপুরে তার বড় ছেলের বাড়ি রয়েছে। সেখানে রয়েছে মাছের খামা’রও। করো’নার মধ্যে আব্দুর রউফ সরকার তার বড় ছেলের বাড়িতে চলে যান।অ’পরদিকে, দিহানের মেজ ভাই নারায়ণগঞ্জে যমুনা ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা।

তিনিও বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ চলে যান। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দিহানের মা সানজিদা সরকার তার অসুস্থ বাবাকে দেখতে বাড়ি থেকে বের হয়ে বগু’ড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।মূলত বাসায় কেউ না থাকায় ওই শিক্ষার্থীকে ফোন করে গ্রুপ স্টাডির কথা বলে বাসায় আসতে বলে দিহান। বেলা ১২টার দিকে ওই শিক্ষার্থী তাদের বাসায় এলে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথন হয়। এক পর্যায়ে দিহান ওই শিক্ষার্থীকে ধ’র্ষণ করে।

এরপর ওই শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত র’ক্তক্ষরণ হলে দিহান ভয় পেয়ে যায়। প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট ধরে র’ক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করে দিহান-অনুশকাহ। তবে এক পর্যায়ে আনুশকাহ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন দিহান বাসার নিচে গিয়ে গাড়ি পার্কিং থেকে নিজের গাড়িটি বের করে। পরে দোতালা থেকে ভুক্তভোগীকে ধ’রাধরি করে নামিয়ে এনে গাড়িতে তুলে মডার্ন আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, ওই শিক্ষার্থী আগেই মা’রা গেছে।

এতে বন্ধু হু’মায়িদ মিল্কি, আলভী মাহবুবসহ তিনজনকে ফোন করে হাসপাতালে আসতে বলে দিহান। এরপরই পু’লিশ তাকে আট’ক করে কলাবাগান থানায় নিয়ে যায়।জবানব’ন্দিতে দিহান আরো জানায়, ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে ইডেক্সেল-এ লেভেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে দিহান। আনুশকাহকে বহন করে নেয়া টয়োটা এক্সিও মডেলে গাড়ি দিহানের বাবা তাকে ২০১৯ সালে কিনে দেন। এর আগে তাকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়ে সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল কিনে দেয়া হয়েছিল।

ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও গাড়িটি দিহান নিজেই চালাত। আনুশকা ছাড়াও আরেক ছাত্রীর স’ঙ্গে দিহানের অবৈ’ধ সম্পর্ক ছিল। জবানব’ন্দিতে দিহান জানায়, আনুশকাহের স’ঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার পরিকল্পনা থেকে বৃহস্পতিবার তাকে বাসায় আসতে ফোন করা হয়। তবে ধ’র্ষণের ঘটনায় আনুশকাহ মা’রা যাব’ে-সেটি সে কল্পনা করতে পারেনি।