অক্টোবরে সুখবর পেতে পারে প্রাথমিকের শিক্ষকরা

সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব অর্থমন্ত্রণালয়ে আটকে গিয়েছে চলতি মাসে।

তবে আসছে অক্টোবর মাসে বেসরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকরা পেতে পারেন সুখবর। মঙ্গলবার ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপের সময় এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এফ এম মনজুর কাদির।

তিনি বলেন, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তৃতীয় ধাপে আত্তীকরণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অক্টোবর মাস শেষ হওয়ার আগেই পুরো কাজটি শেষ করে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। আশা করছি এ ব্যাপারে সুখবর দিতে এর বেশি দেরি হবে না।

তৃতীয় ধাপে ২৯১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আত্তীকরণ করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরকারি স্কেলে বেতন ভাতাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। যেটি অক্টোবর মাস শেষে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মনজুর কাদির বলেন, আমরা সব সময় প্রাথমিক শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করতে চাই। শিক্ষকরা ভালো থাকলে শিক্ষা ব্যবস্থা ভালোভাবে চলবে। যে কারণে সামর্থের ভিত্তিতে শিক্ষকদের জীবনমান উন্নত করার চেষ্টা চলছে।

শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি প্রসঙ্গে অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, এসব দাবির বিষয়ে ভালভাবেই অবগত রয়েছি। বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিটি দাবি পূরণ করার ইচ্ছা আছে। সবকিছু আমাদের হাতে নেই বলে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে এসব দাবি পূরণে মন্ত্রণালয় অনেক আন্তরিক।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অক্টোবর মাসের মধ্যেই আত্তীকরণের পুরো কাজটি সম্পন্ন করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তারা। এ ব্যাপারে সংসদীয় কমিটিকেও কাজটির অগ্রগতি জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত আগস্ট মাসে এবং চলতি মাসের ৯ তারিখে শিক্ষক আত্তীকরণ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দ্রুততম সময়ে ২৯১টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সরকারিকরণের অফিস আদেশ জারি করা হবে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদেরকে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমরা সেটি বাস্তবায়ন করছি। শেষ মুহূর্তের কিছু কাজ চলছে, এটি শেষ হলেই জানানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষক সমাবেশে বাংলাদেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। জাতীয়করণ প্রক্রিয়া তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরইমধ্যে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১ম ও ২য় ধাপের সব কার্যক্রম শেষ করে শিক্ষকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। বাকি শিক্ষকদের নভেম্বর থেকে সরকারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।