হে’ফাজত আর কিছু মো’ল্লাতন্ত্রের বে’য়াদবির সীমা ছা’ড়িয়ে গেছে

মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক’রোনার মতো ভ’য়াবহ অ’ভিশাপের বি’রুদ্ধে ল’ড়াই করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। এমন এক শান্তিপূর্ণ সময়ে আমরা বঙ্গবন্ধুর বি’রোধী নই, আমরা স’রকারবি’রোধী নই বলে অ’সহ্য রকমের ঔ’দ্ধত্য আর উ’গ্র জ’ঙ্গি ও হে’ফাজত আর কিছু মো’ল্লাতন্ত্রের ধ’র্মান্ধ স্বাধীনতা ও মুক্তিযু’দ্ধের চেতনাবি’রোধী শ’ক্তি বে’য়াদবির সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ভু’লে গেছে একাত্তরে ই’সলামের নামে যু’দ্ধের ময়দানে গণহ’ত্যা, গণধ”ণের ভ’য়াবহতা দেখিয়ে সা’ম্প্রদায়িক পাকিস্তান কতটা করুণভাবে পরাজিত হয়েছিল। তারা ভু’লে গেছে মুক্তিযু’দ্ধে বিজয়ী বাংলাদেশ অসা’ম্প্রদায়িক।

এখানে সব ধর্মের নাগরিক তাদের ধর্মচর্চা থেকে সমনাগরিক অধিকার ভোগের অধিকার রাখে। এখানে ই’সলামী জলসা, ওয়াজ মা’হফিল যেমন হয় তেমনি হি’ন্দু ধর্মাবলম্বীরাও তাদের পূজা-পার্বণ মহোৎসব করেন। এখানে জুমার নামাজে যেমন মুসল্লির ঢল নামে তেমনি বাংলা নববর্ষে সকাল থেকে মু’সলমানসহ সব ধর্মের মানুষের স্রোতে ভাসে দেশ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ মাথা তুলে দাঁড়ায়। স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস ছাড়াও জাতীয় শো’ক দিবসেও কম মানুষের স্রোত নামেনি। এমন অবস্থায় উ’গ্র ধর্ম ব্যবসায়ী বাবুনগরী বঙ্গবন্ধুর ভা’স্কর্য ছিঁ’ড়ে নামিয়ে ফেলবেন। মামুনুল হক ভে’ঙে গুঁ’ড়িয়ে দে’বেন বলে যে উ’গ্র হু’ঙ্কার দিয়েছেন তা ব’রদাস্ত বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় বিশ্বাসী জনগণ করবেন না।

মুখের লাগাম টে’নে ধ’রুন। ধর্ম ব্যবসায়ীরা ’৭১ থেকে পরাজিত। পা’ক হা’নাদার বা’হিনী যেমন নিজেদের র’ক্ষা করতে পা’রেনি তেমনি তাদের দোসরদেরও নয়। আ’লেম-ও’লামাদের মা’নুষ সম্মান করলেও যু’দ্ধাপরাধীদের মু’ক্তির পক্ষে ওকালতি, বয়ান, জ’ঙ্গি মিছিল চলবে না। মনে পড়ে মামুনুল হক শাপলা চত্বরে কী বলেছিলেন? আর দিনভর তা-বের পর রাত নামতেই কীভাবে গুটিয়ে পা’লিয়েছেন। এ দেশে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আ’ঘাত করা উ’গ্র না’স্তিকদেরও স্থান নেই। এ দেশে শ্রেণিশ’ত্রু খতমের নামে সর্বহারাদের গো’পন অ’স্ত্রের রাজনীতি, উ’গ্রপন্থি অন্ধকার বিপ্লবীদের কবর রচিত হয়েছে। এখানে একাত্তরের স্বাধীনতাবি’রোধী পাকিস্তান হা’নাদার বাহিনীর দোসর জা’মায়াত ও তাদের সঙ্গীরা অর্থ পেশি ও অ’স্ত্র শ’ক্তির সঙ্গে বাইরের সমর্থনেও দাঁড়াতে পারেনি জনরোষের বি’রুদ্ধে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যে জাতি বিজয় এনেছে দীর্ঘ সংগ্রাম আর বহু র’ক্তে, সেই মহান নায়কের ভাস্কর্য হবে আকাশছোঁয়া। মামুনুল হকরা বাড়াবাড়ি করলে পরিণতি ভালো হবে না।

রাষ্ট্র ও জনগণ বসে থাকবে না। মো’ল্লাতন্ত্রের উ’গ্রতার কাছে বিজয়ী জাতি মাথা নত করবে না। এদের পেছনে যারা ভ’য়ঙ্কর খেলা খেলছে বুঝছে না। এ আ’গুনে নিজেরাও পুড়বেন। মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়। মূর্তি বা পৌত্তলিকতা মন্দিরে মন্দিরে থাকে। সেখানে তাদের ধ’র্মের অনুসারীরা আচার অনুষ্ঠান করেন। পশ্চিমা দুনিয়ায় খ্রিস্টানদের প্রাধান্য থাকলেও বিশাল সুরম্য মসজিদ মন্দির শোভা পায়। ভাস্কর্যতে বীরদের সঙ্গে শিল্পেরও স্থান পায়। বঙ্গবন্ধু ধর্মনিরপেক্ষ’তার ব্যাখ্যায়ই বলেছিলেন সব ধর্মের মানুষ তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে। তার মানে ধর্মের অ’পব্যাখ্যা ধর্মের নামে সমাজ অ’শান্তি উ’গ্রতা নয়। ধর্ম ব্য’ক্তিগত জীবনে। রাজনৈতিক জীবনের নয়।

যারা আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণকে ব্য’ঙ্গ করে মূর্তি নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে ঔ’দ্ধত্য দেখাচ্ছেন তা মুক্তিযু’দ্ধ সংবিধান আইন প’রিপন্থী।

আইনমন্ত্রী, স্ব’রা’ষ্ট্রমন্ত্রী ক’ঠোর হোন। মামুনুল হকের যে ভিডিও দেখেছি প্রতিটা ঔ’দ্ধত্য মি’থ্যা অ’হংকারে অ’ভিশপ্ত। ই’সলামের শেষ নবী আল্লাহর রসুল হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)-এর ঠোঁট নাড়ানোর বর্ণনা দেখাচ্ছেন। এটি মহানবীর প্রতি ধৃষ্টতা, অ’বমাননা ও ধর্মপ্রা’ণ মু’সলমানদের অ’নুভূতিতে আ’ঘাত। এটা বে’য়াদবি। এসব ধর্মের নামে উ’গ্রবা’দী শ’ক্তিকে আ’ইনশৃঙ্খলা র’ক্ষাকারী বাহি’নীকে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যদিকে দেশের মুক্তিযু’দ্ধের উত্তরাধিকার বহন করা সব মত-পথের মা’নুষকে জনগণকে নিয়ে রুখতে হবে।

বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমু মুখ খু
গণজাগরণ ঘটাতে হবে। যে ঐক্যে সা’মরিক শাসনের অ’বসান ঘটেছে। যে ঐক্যে ধ’র্মান্ধ সা’ম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তিকে রুখে দেওয়া হয়েছে, যে শক্তিতে একাত্তরে বিজয় এসেছে, মা’নবতাবি’রোধী শ’ক্তির ফাঁ’সি হয়েছে, সেই শ’ক্তির ঐক্য আজ অনিবার্য। রো’হিঙ্গা নিয়ে অ’স্থির অ’শান্ত পরি’স্থিতি জন্ম নিলে, মুক্তিযু’দ্ধবি’রোধী শক্তি ভাস্কর্যের বি’রোধিতার নামে তা’লেবানি মো’ল্লাতন্ত্রের উ’ত্থান ও আ’গুন জ্বা’লালে কেবল প্রিয় স্বদেশই র’ক্তাক্ত হবে না, অ’শান্ত হবে না, আশপাশের দেশেও আ’গুনের তাপ লাগবে। আফগানিস্তানের তা’লেবানিরা একটি দেশের স’র্বনাশই করেনি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রকেও ক’লঙ্কিত করেছে। যে উ’গ্র মো’ল্লাতন্ত্র একদিন ইস’লাম চলে যাচ্ছে বলে ’৭১ সালে পাকিস্তানি হা’নাদার বা’হিনীর দো’সর হয়ে এ দেশে মু’সলমানদের গণহ’ত্যা করেছে, গণধ”ণ করেছে তারা মুক্তিযু’দ্ধের বিজয় মেনে নিতে পা’রেনি। তাদের প’রিণতিও অ’ভিশপ্ত। তাদের সহচর ও উত্তরসূরিরাই আজ জাতির মহা’নায়ক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য হবে না বলে ধ’র্মের নামে উ’গ্র আ’ক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে অ’শান্ত অস্থির পরিবেশ তৈরির ভ’য়ংকর খেলা খেলছে।

বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমু মুখ খু
লেছেন ১৪ দলের হয়ে। ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, তার মতো। মাহবুব-উল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ কড়া বর্তা দিয়েছেন। এক ছাত্রলীগ নামতেই মামুনুল হকের কণ্ঠ নীরব হয়ে এসেছে। শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জে গোলাম আযমকে হা’রাম করেছিলেন। সারা দেশে রাজনৈতিক শক্তি নেমে গেলে, প্রশাসনিক শক্তি অ্যা’কশনে গেলে এদের খুঁজেও পাওয়া যাবে না। এদের পেছনের শক্তিও নাই হয়ে যাবে। এদের বি’ষদাঁত ভে’ঙে দিতে দ’মন করতেই হবে।

বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমু মুখ খু
এ শক্তি কখনো মা’দ্রাসা ম’সজিদে শি’শুদের অ’মানবিক নি’র্যাতন, ব’লাৎ’কার ধ”ণের ঘটনায় আ’ল্লাহর আরশ কেঁ’পে উঠলেও প্র’তিবাদ করে না। ঘু’ষ-দু’র্নীতির বি’রুদ্ধে কথা বলে না। মা’দ্রাসার ভিতর সংঘটিত ব’র্বরতার কথা বলে না। ধ’র্ষকের ফাঁ’সি চায় না। হেলিকপ্টার, জৌলুসের জীবন, মোটা অঙ্কের নজরানায় ভোগবা’দী জীবনে, ধর্মের রাজনীতির বি’ষ ছ’ড়ায়। শেখ হাসিনা আ’লেমদের সম্মান করেন, মা’দ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখেন। তাই বলে তিনি একাত্তরের দান’ব শক্তি ও তাদের আদর্শের ভাবধারায় সংগঠিত তা’লেবানি জ’ঙ্গিদের মা’থা তু’লতে দেবেন না। এরা ভ’য়ংকর বি’ষধর কা’লনাগ। দেশ-ই’সলামের শ’ত্রু। মু’সল্লিদের দুশমন।

মামুনুল হক এক বক্তৃতায় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুুরী মানিক, ড. জাফর ইকবাল ও শাহরিয়ার কবিরকে জ’ঘন্য ভাষায় আ’ক্রমণ করেছেন। কেউ সত্যিকারের আ’লেম হলে তার ভাষায় মানুষকে জাদুর মতো টানেন। যুক্তি-ত’র্কে ই’সলামের প্রচার করেন। আজ আ’লেম দেখা যায় না। বিদেশি অন্ধকার শক্তির প্রেসক্রিপশনে মামুনুল হকদের কণ্ঠে চ’রম হিং’স্র উ’গ্রতা দেখা যায়। পাকিস্তানের আজ এখানে দুই ধ’র্মান্ধ রাজনৈতিক স’ন্তান। জা’মায়াত ও হে’ফাজত। বাংলাদেশে কবি দাউদ হায়দারকে নিজ দেশ ছা’ড়তে হয়েছিল মু’সলমানদের ধর্মীয় অ’নুভূতিতে আ’ঘাত করার জন্য। তসলিমা নাসরিন ধর্মপ্রা’ণ মু’সলমানদের অ’নুভূতিতে আ’ঘাত করায় তাকে নি’র্বাসিত-জী’বন যাপন করতে হচ্ছে।

বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমু মুখ খু
যা’বজ্জীবন কা’রাদন্ডের চেয়ে এটা য’ন্ত্রণার, অ’পমানের। শা’স্তি তাকে কতকাল ভোগ করতে হবে কেউ জানে না। তারা মানুষ হ’ত্যা করেনি। হ’ত্যার হু’মকি দেয়নি। কিন্তু আইন হা’তে তু’লে নিয়ে যারা তার মা’থার দাম ৫০ হাজার টাকা ঘোষণা করেছিলেন তাদের বি’রুদ্ধে রাষ্ট্র কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আজ মামুনুল হকরা যে ঔ’দ্ধত্য দেখাচ্ছে, তার সঙ্গে বাবুনগরীসহ যারা বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের আবেগ অনুভূতি চেতনায় আ’ঘাত করছেন। রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করছেন। এরা রা’ষ্ট্রদ্রোহিতার অ’ভিযোগে এখনো কেন দেশ ছাড়বে না? কেন জে’লের ভাত খাবে না। এ দেশে থাকতে হলে মুক্তিযু’দ্ধকে মাথার মুকুট হৃদয়ের আবেগ অনুভূতিজুড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে লালন করেই থাকতে হবে। দল যেটি করার করুন। এখানে আপস নেই। বঙ্গবন্ধুর আকাশছোঁয়া ভাস্কর্যই নয়, জাতীয় বীরদের ভাস্কর্যও হবে। এবং মানতে হবে এটা মুক্তিযু’দ্ধে বিজয়ী বাংলাদেশ, তা’লেবানি মোল্লা ওম’রের নয়। স্বাধীনতা সংগ্রাম মুক্তিযু’দ্ধে বিজয়ী বীর মুজিবের বাংলাদেশ। ওমর ভাস্কর্য ভা’ঙার পর পরি’ণতি কী হয়েছিল? বিশ্বস’ন্ত্রাসী লা’দেনের লা’শ কোন সাগরে শেষ?

বিশ্বের সর্বত্র বিভিন্ন ধরনের ভাস্কর্য রয়েছে। রেনেসাঁ এবং আধুনিককালে এর প্রসার হয়েছে ব্যাপকভাবে। তবে আজও দেশে দেশে ভাস্কর্য তৈরি হচ্ছে নিপুণ সৃষ্টিশীলতায়। এর মাধ্যমে ফুটে উঠছে নিজ দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি-কালচার। খোদ সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, মিসর, ইরান, ইরাকসহ প্রায় সব মু’সলিম দেশে ভাস্কর্য রয়েছে। ইরানে আছে একটি বিশাল স্বাধীনতা স্তম্ভ, যার নাম ‘আজাদি’। এ স্থাপত্যটির ডিজাইনার হোসেন আমানত একজন মু’সলমান। কবি ফেরদৌসি, ওমর খৈয়াম, পারস্যের নেপোলিয়ন বলে খ্যাত নাদির শাহর মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিদের ভাস্কর্য রয়েছে ইরানে। মাশহাদ নগরীতে ভাস্কর্যসংবলিত নাদির শাহর সমাধিসৌধটি পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়।

বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমু মুখ খুইরানের রাজধানী তেহরানে দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয় সমকালীন ভাস্কর্য প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা। ইরানের মাজানদারান প্রদেশে প্রতি বছর আয়োজন করা হয় বালির তৈরি ভাস্কর্য প্রদর্শনীর। এটি একটি উৎসব, যার নাম স্যান্ড স্কাল্পচার ফেস্টিভ্যাল। পিরামিডের জন্য দুনিয়াজোড়া খ্যাতি মিসরের। বিরাটত্বের দিক থেকে বিখ্যাত হলো জোসার বা স্টেপ (সোপান) পিরামিড ও গিজা পিরামিড। পাথরের তৈরি স্ফিংসের ভাস্কর্য গির্জা পিরামিড সারা দুনিয়ার পর্যটকদের অতি প্রিয়। শুধু ইসলামপূর্বই নয়, অনেক অনেককাল আগের তথা খ্রিস্টপূর্ব আড়াই হাজার বছর আগের এসব ভাস্কর্য মিসরের মু’সলমানরা ধ্বং’স করেনি। কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে মাহমুদ মোখতারের বিখ্যাত ভাস্কর্য ‘ইজিপ্টস রেনেসাঁ’।

বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমু মুখ খু
ইরাকেও আছে অনেক ভাস্কর্য। বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে ডানার ভাস্কর্যটি সবার নজর কাড়ে। বাগদাদের পাশে আল-মনসুর শহরে আছে মনসুরের একটি বিশাল ভাস্কর্য। আছে অনেক সাধারণ সৈনিকের ভাস্কর্য। সাদ্দাম হোসেনের বিশাল আকারের ভাস্কর্যটি মা’র্কিন আগ্রাসনের পর ভে’ঙে ফে’লে সাদ্দামের রাজনৈতিক প্র’তিপক্ষ, যারা মা’র্কিন বাহি’নীর ম’দদপুষ্ট। এটা ভা’ঙা হয় রাজনৈতিক কারণে, ধর্মীয় কারণে নয়।

তাই বলে ভাস্কর্যহীন হয়নি ইরাক। প্রচুর ঐতিহাসিক ও দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যের মালিক দেশটি। রাজধানী বাগদাদে বেশ কিছু বিখ্যাত ভাস্কর্য রয়েছে। সেগুলো হলো ইন্টারন্যাশনাল জোনে হাম্মুরাবির ভাস্কর্য। অ্যাম্বুরাবিদের বিখ্যাত ষষ্ঠ রাজা হাম্মুরাবির খ্রিস্টপূর্ব ১৭৯২ অব্দে ব্যাবিলনের সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং ১৭৫০ অব্দ পর্যন্ত রাজ্য শাসন করেন। হাম্মুরাবি কোডের জন্য খ্যাতিমান এ রাজা। আরব্য উপন্যাসের র’হস্যে এখনো র’হস্যময় বাগদাদ শহরের আবু নুয়াস স্ট্রিটে শাহেরজাদি পার্কে রয়েছে আরব্য উপন্যাসের প্রধান চরিত্র শাহেরজাদি এবং রাজা শাহরিয়ারের ভাস্কর্য। বিশ্বজুড়ে আলীবাবার মর্জিনাকে চেনে না এমন মানুষ পাওয়া মুশকিল। এ বুদ্ধিমতী বাঁদি মর্জিনার বুদ্ধিতে কু’পোকাত হয়েছিল ৪০ চো’র। সেই মর্জিনার ভাস্কর্যের দেখা মিলবে বাগদাদে আলীবাবা স্কয়ারে আলীবাবা ফাউন্টেনে।

প্রচ- রক্ষণশীল মু’সলিম দেশ সৌদি আরবের বাণিজ্যিক রাজধানী জেদ্দা নগরীতে আছে উটের দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য। জেদ্দার উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্যের মধ্যে রয়েছে নগরীতে মুষ্টিবদ্ধ হাত, হাংরি হর্স, মানব চোখ, মরুর বুকে উটের ভাস্কর্য। আফগানিস্তানের জ’ঙ্গিরাও হা’ত দেয়নি অষ্টম শতকের সমরনায়ক আবু মু’সলিম খোরাসানির ভাস্কর্যের গায়ে। গজনিতে এখনো স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে সেই ভাস্কর্য। মু’সলিম দার্শনিক ও প ন্ডিত ইবনে সিনার নাম কে না জানে। তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে ইবনে সিনার একটি বিশাল ভাস্কর্য আছে। মু’সলিমপ্রধান ওই দেশের কোনো নাগরিক তো ভাস্কর্যটির গায়ে আঁচড়ও দেন না।

ইউরোপ ও এশিয়ার সঙ্গমস্থলে অবস্থিত বলে তুরস্কের ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিব’র্তনে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব পড়েছে। এককালের সারা মু’সলিম জাহানের খলিফার দেশ সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। সারা তুরস্কের বিভিন্ন স্থানে আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম প্রে’সিডেন্ট কামাল আতাতুর্কের রয়েছে অগণিত ভাস্কর্য। একেকটি দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যে একেক রকমভাবে আতাতুর্ক এবং তুরস্কের ইতিহাস, ঐতিহ্য বিবৃত হয়েছে।

ক্ষমতায় এখন এরদোয়ানের ইসলামী দল। যে রাজনীতি জামায়াত অনুসরণ করে। সেই এরদোয়ানও কামাল আতাতুর্কের ভাস্কর্যে হাত দেওয়ার সাহস পাননি। বিদেশের পর্যটকরাও সেখানে যান। এ দেশে যারা ভাস্কর্যবি’রোধী তাদের গ্লানি ল’জ্জা হিং’স্রতা মুক্তিযু’দ্ধ ও তার মহা’নায়ক এবং বীরেরা। এরা তালেবানি মোল্লা ওম’রের মতো অন্ধ, অনুসারী।

কামাল আতাতুর্কের ভাস্কর্য ছাড়াও তুরস্কের উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্য হলো, মর্মর সাগর তীরে পোতাশ্রয়ে অপূর্ব মর্মর ভাস্কর্য, আঙ্কারায় ইনডিপেনডেন্স টাওয়ারের পাদদেশে তুরস্কের জাতীয় সংস্কৃতির ধারক তিন নারী ভাস্কর্য ও আন্তালিয়ায় এডুকেশন অ্যাকটিভিস্ট তুরকান সায়লানের ভাস্কর্য। সবচেয়ে বেশি মু’সলিম অধ্যুষিত দেশ ইন্দোনেশিয়া। সে দেশেরই উত্তর সুলাবেসি দ্বীপের খ্রিস্টান অধ্যুষিত শহর মানাদোতে রয়েছে যিশুখ্রিস্টের এমন একটি ভাস্কর্য, যেটি এশিয়ায় সবচেয়ে উঁচু। ৩২ মিটার উঁচু একটি পাহাড়ের ও’পর দাঁড়িয়ে আছে ৩০ মিটার উঁচু ভাস্কর্যটি। এ ভাস্কর্য নিয়ে গা-জ্বা’লা নেই ইন্দোনেশীয় মু’সলমানদের।

পাকিস্তানে রয়েছে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভাস্কর্য; রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য শিল্প। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনের সামনে ষ-মূর্তি, লাহোরে বাদশাহি মসজিদের পাশে মেরি মাতার ভাস্কর্য, পাঞ্জাবের জং শহরের রাস্তায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়সওয়ারের ভাস্কর্য, লাহোরে ন্যাশনাল কলেজ অব আর্টস প্রাঙ্গণের নানা ভাস্কর্য তো আছেই।

মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত ভাস্কর্য হলো- ওয়াশিংটন মনুমেন্টের আদলে গড়া ন্যাশনাল মনুমেন্ট। দ্বিতীয় বিশ্বযু’দ্ধে শহীদ বীরদের স্মরণে ১৫ মিটারের এ ভাস্কর্যটি উন্মুক্ত করা হয় ১৯৬৩ সালে। প্রতীকীভাবে সাতজন বীরের প্রতিমূর্তির মাধ্যমে বিশ্বস্ততা, আত্মত্যাগ আর বন্ধুত্বের বি’ষয়টি এ ভাস্কর্যের মধ্য দিয়ে বোঝানো হয়েছে। মালয়েশিয়ার ভাস্কর্য শিল্প সনাতন ও আধুনিক ধারার এক স্বতন্ত্র মেলবন্ধন। মালয়েশিয়ার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্য হলো- বাতু কেভসের বিখ্যাত মুরুগান, কুচিং হলিডে ইন হোটেলের সামনে মার্জার এবং কনফুসিয়াসের ভাস্কর্য। দামেস্কের সিটিতলায় মহাবীর সুলতান সালাদিনের ভাস্কর্য শোভা পায়। ইরানের পথে পথে যেমন মনীষীদের তেমনি মু’সলিমপ্রধান শীর্ষ দেশ ইন্দোনেশিয়ার বালির মূল সড়কের পাশে সরস্বতীর ভাস্কর্য পর্যটক টানে। এখানে পুজো হলে মূর্তি বলা যেত। হয়নি, তাই শিল্প। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বুর্জ আল খলিফার বিপরীতে রয়েছে আরব যুগলের ভাস্কর্য। কোন মু’সলিম দেশে নেই ভাস্কর্য? ইরানের ধর্মীয় নেতা খোমেনির একাধিক ভাস্কর্য রয়েছে। এখানে একদিন যারা স্লোগান তুলেছিল ‘আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান’ তাদের প্রেতাত্মা এখন মাঠে নেমেছে। তারা অদৃশ্য শক্তির উসকানিতে মোল্লা ওম’রের তালেবানি বিপ্লবের মহড়া দিচ্ছে। এদের মরণদশা হবে। এদের রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ। জাতি আর সহ্য করতে রাজি নয়। ওদের গায়ে ফোসকা পড়ে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযু’দ্ধ। তাই এর বি’রুদ্ধে। এ মোল্লাতন্ত্রকে ক’ঠোর হাতে দ’মন করা না গেলে এ দেশে পর্যটক কোনো দিন আসবে না। বীরত্বের ইতিহাস ও দেশজুড়ে শিল্প শোভা পাবে না। এদের এখনই দ’মন দরকার।