একটি সত্য ঘটনা,নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, সবাইকে পড়ার অনুরোধ রইল!

মে’য়েটাকে এক রাতের জন্য ভাড়া করে নিয়ে এসেছিলাম। বাড়িতে সপ্তাহ খানেক কেউ

থাকবেনা। বাবা-মা জরুরী কাজে বাড়ির বাহিরে গিয়েছিলেন। ছোট বোনটা মহিলা

কলেজের হোষ্টেলেই থাকে ।আবার প্রশ্ন করে,কেন? এমনিতেই। তুই বলেছিলি না কেন

আমি নে’শাকরি? শুনবি?মে’য়েটা মা’থা ঝোকায়।আমি বলি তাহলে শুন আমা’র

পেছনের ফেলে আসা ইতিহাস।যেখানে শুধুই হাহাকার আর ক’ষ্ট।মে’য়েটা গল্প শুনতে

শুনতে ঘুমিয়ে পরে। পরদিন সকালে ও যখন চলে যাচ্ছিল বলেছিলাম,তোর ঠিকানাটা

দিবি? ও বলেছিলো না। বললাম আজ আবার এই ঠিকানায় চলে আসিস। মে’য়েটা হেসে

বলে আচ্ছা,আজ কতনিবে সে টাকার কথা না বলেই চলেগেল ও।,পরদিন ওর গল্প

শুনতে লাগলাম, ও বলে,আমি কলেজে পড়ি।এবার বি.এ পড়তাম।যদিও বাবা, বেঁচে

নেই।ছোট্ট একটা বোন,মা আর আমি। এই আমা’র পরিবার,এই আমা’র দুনিয়া,,,,।দিনের

বারোটা পর্যন্ত মানুষের বাড়িতে কাজ করি আমি। বিকেলে বাচ্চাদের পড়াই।মাঝে মাঝে

কলেজে যেতাম! আর মা সারাদিন কাজ করতেন।রাতে বাতির আলোয় কলেজের

বইপড়ি। বছর তিনেক আগে পাঁচ হাজার টাকায় ঝি এর কাজ করতাম এক বাড়িতে।

তারা সকালে নাস্তা আর দুপুরের খাবার দিতো আমায়। দিব্যি চলেযেত দিন।আমি

বললাম,তারপর? তারপর যখন এস,এস,সি পাশ করেছিলাম,কলেজে ভর্তি হলাম।

লেখাপড়ার খরচ বাড়তে লাগলো। প্রাইভেট পড়ার সময় ছিলোনা,গাইডের প্রয়োজন

দেখা দিত। প্রথম প্রথম বান্ধবীদের থেকে নিতাম। কিন্তু ঝি এর কাজের জন্য প্রতিদিন

কলেজে যেতে পারতাম না।তাই তারাও আর নোট দিতনা।

অবশেষে বাড়ির মালিককে বলে দুপুরের খাবারের বদলে একহাজার টাকা বেতন বাড়িয়ে

নিয়েছিলাম। সকালের নাস্তার দুটো বিস্কুট আর এক কাপ চা খেয়েই কাজ করতাম

সারাদিন। এটুকু খেয়ে তুই থাকতে পারতি? তোর ক’ষ্ট হতনা? প্রথম প্রথম খুব ক’ষ্ট

হয়েছিলো। পেটে মোচড় দিয়ে ব্যাথা হত।মা’থা ঘুরে পরেও গিয়েছিলাম কয়েকদিন।

জানেন,মালিকে বাড়িতে দুটো গরু ছিলো।বহুগরুকে খাবার দিতে গিয়ে ঐ পঁচা পান্তা

গুলো খেয়েছিলাম।কি করব,ক্ষুধার জ্বালায় যকরতে পারতাম না।আর কাজ না করলে

মালিক তো বেতন দিবে না। রাতের খাবার মা অন্যের বাড়ি থেকে আনত।ছোট, বোনকে

খাওয়ানোর পর যা থাকত,মা আর আমি ভাগ করে খেতাম।

আমি মা কে বলতাম মা,জীবনে একদিন সুখ, আসবেই।একদিন ক’ষ্টগুলো সুখে

রুপান্তরিত হবেই। তারপর? মে’য়েটা আবার বলতে থাকে, আমি ইন্টার পাশ করলাম।

কিন্তু আর কলেজে ভর্তি, হতে পারিনি। যে বস্তিটাতে থাকতাম কয়েকদিন আগে সেখানে

আ’গুন লাগে। ঘরে যা টাকা ছিল সব আ’গুনে পুড়ে গেছে। খুব ক’ষ্ট পেয়েছিলাম আমি।

আবার ক’ষ্টটাকে বুকে টেনে নিয়েছিলাম। এবার বিকেলে বস্তির বাচ্চাদের পড়াতে শুরু

করেছিলাম। ভেবেছিলাম,এবছর না, হোক সামনে বছর আবার ভর্তি হব।কিন্তু হয়ত সে,

কপাল আমা’র নেই।একরাতে বাড়িফেরার পথে মা এক্সিডেন্ট করে বসেন।ক’ষ্টটা যেন এবার নিয়তি হয়ে গিয়েছিলো।কি করব আমি, কোনদিকে যাব? ভাবতে লাগলাম গরিবের

দুঃখই যে নিয়ামত…..!!! একদিকে ছোটবোন,আরেকদিকে হাসপাতা’লে মা। কোন পথ না পেয়ে দিনের কাজের পাশাপাশি রাতে এ পথে নেমে এলাম,,,, আমি তারপর কি হল

রে,,,,,,, মে’য়েটার কন্ঠ ভা’রি হয়ে আসে,ও কাঁদোকাঁদো স্বরে বলতে থাকে, ব্যবসা করতে লাগলাম নিজের দেহ দিয়ে,,

আজ একটা মাস যাবত মা’র কাছে ছোট বোনকে রেখে রাতে পড়ার নামে বেড়িয়ে পরি আমি। ফেরী করে বেড়াই নিজের

দেহকে নিয়ে।দেহটার কত মূল্য হবে নিজেই ঠিক করে দেই,,,, কাঁদতে থাকে মে’য়েটি,কাঁদতে থাকি আমি। মে’য়েটা তারপর থেকে রোজ আসত। আমি বুঝতে পারি

আমাহিরোইনের নে’শাটা এখন বদলে গেছে।নে’শাটা এখন ওর গল্প শোনায় রুপান্তরিত হয়েছে। আমিও তখন নে’শা বাদ দিয়ে তার সাথে সময় কা’টাতাম! হঠাৎ একদিন

শুনলাম ওর মা মা’রা গেছে। খুবই দুঃখ পেলাম,,,,,,,,,,, কি করব বুঝতে পারছিলাম না। আমি বাবাকে বললাম তার জীবনের কাহিনী ও আমা’র খুজে পাওয়া,,,…..

বলেছিলাম,বাবা আমা’র স্বপ্ন তো জোড়া লেগে ভেঙেছিলো,কিন্ত আমিএ মে’য়েটা স্বপ্নের খোজটুকুও পায়নি।বাবা বিজ্ঞান বিষয় খুব ভালো বুঝতেন।দুটো কালো মেঘের ঘষায় সৃষ্ট

বিদ্যুৎ যে সবাইকে আলোকিত করতে পারে, এই হিসাবেই আমি আর মে’য়েটাকে একত্র করে দিলেন। বিয়ে দিয়ে বাবা বলেছিলেন,দুজনের, আধারজীবনটাকে এবার আলোকিত

করো তোম’রা। আর আমি হয়ে গেলাম বিবাহিত ও হ্যা, মে’য়েটার নাম অঁতশী।আজ আমাদের তৃতীয় বিবাহ বার্ষিকী’। আমি, অ’তশী,বাবা-মা-বোন,আমাদের ছোট শি’শু

আনজু আর ওর ছোটবোন রেখা, ওর মা’র কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কবর জিয়ারত করছি। অ’তশী কেঁদে কেঁদে বলল,মা বলেছিলাম না, সুখ একদিন আসবেই। আজ দেখ আমি

কত সুখে আছি,কিন্তু তোমা’র অনুপস্তিতিতে,তারপর সবাই কবর জিয়ারত করে গাড়ি করে বাড়ি ফিরতে লাগলাম!