হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর রওজা শরিফ খুলে দেয়া হচ্ছে

মদিনায় হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর রওজা শরিফ মুসল্লিদের জন্য রোববার (১৮ অক্টোবর) থেকে খুলে দেয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক জাতীয় কমিটির সদস্য হানি আল-ওমাইরি এ ঘোষণা দিয়েছেন।

সেদিন থেকে আড়াই লাখ সৌদি নাগরিককে ওমরার অনুমতি দেয়া হবে। খবর খালিজ টাইমসের।

আল-ওমাইরি বলেন, ’মদিনা শরীফের পুরনো স্থাপনাসহ পুরো মসজিদটি সবার জন্য খুলে দেয়া হবে। মসজিদুল হারামে ৬০ হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবেন।’

ওমরার জন্য নিবন্ধনকারীদের অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে বলেও সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক কমিটি জানিয়েছে। এছাড়া ১ নভেম্বর থেকে সৌদি আরবে অবস্থান করা এবং বাইরে থেকেও ইবাদতের উদ্দেশে সব মুসলিমকে মসজিদুল হারামে ঢুকতে দেয়া হবে। তবে আবেদন করার আগে করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবার কোনো হাজি নিজস্ব জিনিসপত্র ব্যবহার করতে পারবেন না। হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান করবে এবং শুধু সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। হাজিদের প্রদত্ত জিনিসের মধ্যে আছে—চিপ লাগানো একটি স্মার্ট ব্রেসলেট, দুই সেট ইহরামের কাপড়, ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি, জামারাতে নিক্ষেপের জন্য জীবাণুমুক্ত কঙ্কর, জুতা, ফোনের চার্জার, জায়নামাজ, জুতার ব্যাগ, হাতব্যাগ ও হজের বিধি-বিধানসহ প্রাসঙ্গিক বইপত্র ও স্বাস্থ্যবিধি সংবলিত হজ নির্দেশিকা। এই জিনিসপত্র কেবল হাজি নিজে ব্যবহার করতে পারবেন। পরস্পর আদান-প্রদান করতে পারবেন না।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আগে সাধারণ ফ্লু মোকাবেলায় হাজিদের টিকা দেওয়া হলেও সামাজিক দূরত্ব রক্ষা বিষয়টি আগে কখনো ছিল না; বরং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কখনো কখনো পদদলিত হয়েও হাজিদের মারা যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরবের সরকার, বড় বড় কম্পানি ও মক্কা-মদিনার সাধারণ মানুষের মধ্যে হাজিদের উপহার দেওয়া ও আপ্যায়নের রীতি থাকলেও খাবার, যাতায়াত ও বাসস্থানের ব্যবস্থা হাজিদেরই করতে হয়। আর মক্কা-মদিনায় সাধারণ প্রবেশাধিকার থাকে সব মুসলিমের।