অযোধ্যা মসজিদ তৈরিতে প্রথম অনুদান দিলেন এক হিন্দু

বাবরি মসজিদের বিকল্প অযোধ্যা মসজিদ নির্মাণে প্রথম অনুদান দিয়েছেন ভারতের একজন হিন্দুধর্মাবলম্বী।

ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, শনিবার মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের জন্য প্রথম অনুদান হিসেবে ২১ হাজার রুপি প্রদান করেন লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের কর্মকর্তা রোহিত শ্রীবাস্তব। রোহিত আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতিবোধ থেকে মসজিদ নির্মাণে অনুদান দিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

অনুদানের চেক গ্রহণ করেন সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আওতাধীন ইন্দ্রো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন সেক্রেটারি আতহার হুসাইন। এসময় ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মুহাম্মাদ রশিদ ও ইমরান আহমদ উপস্থিত থাকেন।

এ সময় রহিত শ্রীবাস্তব বলেন, আমি আমার বেতন থেকে ২১ হাজার টাকা দান করেছি। আমি নিশ্চিত যে এটি সবার মধ্যে একটি বিশেষ বার্তা প্রেরণ করবে। বিশেষত অসহিষ্ণুতা এবং ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক বিভেদের সময়ে আমাদের একতাবদ্ধ থাকার বার্তা দেবে সবাইকে।

তিনি আরও বলেন, আমি লখনৌর সন্তান। কায়সারবাগের কাসাইবাডা অঞ্চলের কাছে এমন এক জনপদে আমার জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠা, যেখানে হিন্দু ও মুসলমান সবাই এক সঙ্গে বসবাস করে। আমরা একই পরিবেশে বড় হয়েছি। আমি আমার মুসলিম বন্ধু এবং প্রতিবেশীদের সাথে একাধিক ইফতার ও সেহরিতে অংশ নিয়েছি এবং হোলির সময় আমি তাদের থাকতে দেখেছি । বিষয়টি শুধু আমার ক্ষেত্রেই নয়, বরং এটা ভারতে কোটি কোটি হিন্দু-মুসলিমের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

তিনি আরও বলেন, ধর্মের নামে কোনো ভুল ব্যাখ্যা করার শিক্ষা আমাদের পরিবার কখনো আমাদের দেয়নি। মসজিদের অনুদানে আমার হিন্দু বন্ধুদের এগিয়ে এসে দৃষ্টান্ত স্থাপনের অনুরোধ করবো। যেন মুসলিমরাও আমাদের ভাই এই বার্তা সবার কাছে পৌঁছে যায়।

এদিকে ট্রাস্ট সেক্রেটারি আতাহার হোসেন বলেন, মসজিদ নির্মাণের প্রথম অনুদান এসেছে একজন হিন্দু ভাইয়ের কাছ থেকে। তা ইন্ডো-ইসলামিক কালচারের উৎকৃষ্ট নমুনা।

এদিকে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, কৈলাস মঠের প্রধান পুরোহিত এবং নিরঞ্জনি আখড়ার প্রধান আহুতোশানন্দ গিরি গত ১২ আগস্ট মসজিদটি নির্মাণের জন্য একটি রূপোর ইট দান করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গিরি আরও বলেছিলেন যে যদি মসজিদের ভিত্তি স্থাপনের জন্য রূপার ব্যবহার নিষিদ্ধ হয় তবে তিনি সোনার ইট দিতেও প্রস্তুত।