হিন্দু ভাইয়ের মুখাগ্নি করল মুসলিম বোন

পাতানো ভাইকে শুধু আশ্রয় দেননি, মৃত্যুর পর মুখাগ্নিও করলেন আসামের শিবসাগর জেলার মুসকান বেগম। এ নিয়ে অবশ্য প্রশংসা যেমন জুটেছে তেমনই শুনতে হয়েছে সমালোচনাও। ভারতের সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ হয়েছে।

ছোটবেলায় বাবা হারানো ধ্রুব ঠাকুর দাদীর কাছেই বড় হয়েছেন। তখন থেকেই মুসকান বেগমকে বড় বোনের মতো দেখতেন। মুসকান বেগম ও ধ্রুব ঠাকুরের মধ্যে গড়ে উঠে ভাই-বোনের সম্পর্ক। বিয়ের পর মুসকান চলে যান শিবসাগরে। বিয়ে করে ধ্রুব ঠাকুরও। তবে অত্যধিক মদ্যপানের অভ্যাস থাকায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বনিবনা হয়নি বেশি দিন। পরিবারের সদস্যদের থেকে আলাদা থাকা শুরু করেন ধ্রুব।

এরইমধ্যে সম্প্রতি আচমকা মারা যান ধ্রুব ঠাকুর। হিন্দু সৎকার রীতি অনুযায়ী তাকে মুখাগ্নি করতেও কেউ এগিয়ে আসেনি। তবে প্রয়াত ভাইয়ের মুখাগ্নি করতে পিছপা হোননি মুসলিম বোন মুসকান বেগম। তিনিই ভাইয়ের লাশ শশ্মানে নিয়ে যান এবং মুখাগ্নি করেন।

এ ঘটনায় অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া জন্ম নিয়েছে। কেউ বলছেন ধর্ম, বর্ণ ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠেছে ভাই-বোনের সম্পর্ক। আবার অনেকেই করছেন সমালোচনা। ধর্মীয় রীতিনীতির তোয়াক্কা না করাই মূলত সমালোচনার কারণ। তবে মুসকান বেগম নিজে কোনো কথায় কান দিচ্ছেন না। তার মতে শুধুই এক ভাইয়ের প্রতি বোনের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।