হেরা পাহাড়, যেখানে ধ্যানমগ্ন থাকতেন প্রিয় নবী (সাঃ)

জাবালে নুর নামে পরিচিত হেরা পাহাড় পবিত্র মক্কা নগরীর একটি ঐতিহাসিক স্থান। মসজিদুল হারামের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত এ পাহাড় ৬৪২ মিটার উঁচু। পাহাড়ের চূড়ায় বিখ্যাত হেরা গুহা অবস্থিত। নবুয়ত প্রাপ্তির আগে প্রিয় নবী (সাঃ) এ গুহায় আল্লাহর ইবাদত করতেন। গুহার নিরিবিলি পরিবেশে ধ্যানমগ্ন থাকতেন তিনি।

মহানবী (সাঃ) এই গুহায় অবস্থানকালীন সময়েই সর্বপ্রথম সরাসরি ওহি বা আল্লাহর প্রত্যাদেশ লাভ করেন। ফেরেশতা জিবরাইল (আঃ) এসে রাসুলকে (সাঃ) বলেন, ‘পড়ুন।’ রাসুল (সাঃ) বললেন, ‘আমি পড়তে জানি না।’ জিবরাইল (আঃ) নবী করিম (সাঃ)-কে আলিঙ্গন করে পুনরায় বলেন, ‘পড়ুন।’

এভাবে তিন বার ফেরেশতা জিবরাইল (আঃ) তাকে আলিঙ্গন করেন। এরপর নবী করিম (সাঃ) পড়তে শুরু করলেন। সুরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত সেদিন অবতীর্ণ হয়। হেরা পাহাড় ঘিরে নবীজির অনেক স্মৃতি রয়েছে। একবার নবীজি কয়েকজন সঙ্গীসহ এ পাহাড়ে আরোহণ করেন। তখন পাহাড়টি কাঁপতে শুরু করে। মহানবী (সাঃ) তখন বলেন, ‘শান্ত হও হে হেরা, তোমার ওপর একজন নবী, একজন সিদ্দিক ও একজন শহীদ অবস্থান করছেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৪১৭) হেরা গুহায় পৌঁছানো কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তবুও প্রিয় নবীর স্মৃতিধন্য হওয়ায় হজযাত্রী-পর্যটকদের কাছে এটি একটি প্রিয় স্থান।

অহেতুক কাজ পরিত্যাগ করা ইসলামের সৌন্দর্য

দৈনন্দিন জীবনে কত কাজই তো আমরা করি। কিন্তু সব কাজ আমাদের উপকার বয়ে আনে না। বরং অনেক সময় তা ক্ষতির কারণ হয়। অহেতুক কথাবার্তা, বেফাঁস মন্তব্য এবং অযথা সময় নষ্ট করা মোটেও কাম্য নয়। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আমরা অহেতুক কাজ বেশি করে থাকি। যেখানে সেখানে বেফাঁস মন্তব্য করতে আমাদের বিবেকে বাঁধে না। ফেসবুকের কমেন্ট-বক্সে অশ্লীল কথাবার্তা ও গালাগালির একপ্রকার প্রতিযোগিতা দেখা যায়। একজন মুসলমানের কাজকর্ম কখনো এমন হওয়া কাম্য নয়। গালি কখনোই মুসলমানের ভাষা হতে পারে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না। একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাকে মন্দ নামে ডাকা গর্হিত কাজ। যারা এ ধরনের আচরণ হতে নিবৃত্ত না হয় তারা সীমা লঙ্ঘনকারী।’ (সুরা হুজরাত, আয়াত: ১১) আল্লাহ তা’আলা সময়-সুযোগ আমাদেরকে দিয়েছেন। তার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে হবে।
v

নইলে কেয়ামতের দিন কড়ায়-গন্ডায় সময়ের হিসেব দিতে হবে। তাই ইসলামের অন্যতম মূলনীতি হলো, অহেতুক কথা-কাজ পরিত্যাগ করা। যেখানে সেখানে অনুমান-নির্ভর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যা কানে আসে তা-ই বলে দেওয়া মিথ্যা হওয়ার জন্য যথেষ্ট।’ (মুসলিম, হাদিস: ৫) পরচর্চা করা, অপবাদ রটানো, মিথ্যা বলা এবং গুজব ছড়ানো অহেতুক কাজের অন্তর্ভুক্ত।

তাই এসব থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। ইসলাম নির্দেশিত অবশ্যপালনীয় কর্তব্যগুলো যথাযথভাবে পালন করতে হবে। বিরক্তি ও হতাশা থেকে মুক্তি পেতে হলে অহেতুক কাজ পরিত্যাগ করার বিকল্প নেই। এ কারণেই এটিকে হাদিসে ইসলামের সৌন্দর্য বলা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘অহেতুক কাজ পরিত্যাগ করা ইসলামের সৌন্দর্য।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৩১৭)