কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই লণ্ডভণ্ড ১০ গ্রাম

ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে রংপুরের বদরগঞ্জে ১০টি গ্রামের শতশত বসতবাড়ি-দোকানপাট। ঝড়ের আঘাতে আহত হয়েছেন শিক্ষার্থী, শিশু বৃদ্ধাসহ অন্তত ১০ জন। এতে প্রায় ৫ হাজার গাছপালা উপড়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ। ভেঙে পড়েছে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি।

শুক্রবার দুপুরের পর হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে উপজেলার দামোদরপুর ইউপির শেখেরহাট ও বদরগঞ্জ পৌরশহরের ফায়ার সার্ভিসপাড়া এলাকার মানুষ।
গত দুইদিনেও দামোদরপুর এলাকায় বিদ্যুত সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। শনিবার দুপুরের দিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের এমপি আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক, রংপুরের ডিসি আসিব আহসান, উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট, ইউএনও মেহেদী হাসান। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ সহায়তা দেয়া হয়।

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় হঠাৎ করে বদরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে মাত্র এক মিনিটের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় আধা-পাকা বসতবাড়ি, দোকানপাট ও ১০টি প্রতিষ্ঠান। এতে প্রায় ৫ হাজার গাছ উপড়ে পড়েছে। দামোদরপুর ইউনিয়নের শেখেরহাট বাজারের বহু দোকানপাট ও বাড়িঘর দুমড়ে মুচড়ে গেছে।

দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক সরকার জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে ৩৯১টি ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে একটি মসজিদ ও মন্দির ঘর ভেঙে পড়েছে। সড়কে গাছ ভেঙে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভেঙে পড়া গাছ কেটে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করে তোলে।

ইউএনও মেহেদী হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় ঢেউটিন ৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেযা হবে।

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের এমপি আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় নগদ সহায়তা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।