শ্রীলঙ্কা সফর বাতিল হলে যে বিকল্প বেছে নেওয়ার কথা জানালেন আকরাম খান

২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু শ্রীলঙ্কা সফরের প্রস্তুতি। আর ১৮ সেপ্টেম্বর করোনা টেস্ট দিয়ে নেগেটিভ ক্রিকেটাররা ২০ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ হোটেলে উঠে যাবেন। এগুলো আগে থেকেই ঠিক করা। কিন্তু সফর নিশ্চিত না হওয়ায় ২১ সদস্যর টেস্ট স্কোয়াড চূ’ড়ান্ত হবার পরও ঘোষণা আসেনি। তাই বাধ্য হয়ে যে ২৭ জনের ‘জিও’ (গর্ভনমেন্ট অর্ডার) করা হয়েছে, তাদের সবাইকে অনুশীলনে ডাকা হয়েছে।

মোদ্দা কথা, সফর হলে দেশ ছাড়ার আগে যে প্রক্রিয়ায় অনুশীলন শুরুর কথা ছিল, যেভাবে ক্রিকেটারদের করোনা টেস্ট দিয়ে নেগেটিভদের এক পাঁচ তারকা হোটেলে রেখে সপ্তাহখানেক সময়ের আবাসন ও অনুশীলনের পরিকল্পনা ছিল, সেটাই বহাল আছে। বরং দল ঘোষণা করতে না পারায় ৬ জন ক্রিকেটারকে বাড়তি রেখেই চলছে প্র্যাকটিস।

এদিকে শ্রীলঙ্কা যাওয়া হবে, তার আগে দেশের মাটিতে অল্প কদিনের অনুশীলন হবে- তা ধরেই হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো, পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসন, ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক ও ট্রেনার নিক নেইলও চলে এসেছেন বেশ কিছুদিন আগেই। তারাও সোনারগাঁ প্যান প্যাসিফিকেই আছেন।

সব মিলে একটা লক্ষ্য ও পরিকল্পনার প্রয়োগ ঘ’টাতে বিসিবির মোটা অংকের টাকাও খরচ হচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে শ্রীলঙ্কা সফরে যাবার আগে এমন পরিকল্পনা ও বড় অংকের অর্থ খরচের সব কিছুই ছিল চূ’ড়ান্ত। সফর হলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বাতিল হয়ে যায়, লঙ্কানরা যদি শেষ পর্যন্ত বিসিবির দা’বি না মানে; তাহলে এত প্রস্তুতি, অর্থব্যয় সবই যে অর্থহীন হবে। তখন কি হবে?

বিসিবির অন্যতম শীর্ষ কর্তা ও জাতীয় দল পরিচালনা এবং তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি প্রধান আকরাম খান এ সময়োচিত প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। আজ সোমবার দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতেই আকরাম খান বলেছেন, ‘আসলে আমরা এখন যা যা করছি, তা তো আগে থেকেই ঠিক করা। সফর হবে ধরে নিয়েই এসব পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। আমরা কবে যাব, কবে কখন অনুশীলন শুরু হবে, কোয়ারেনটাইন টেস্ট কবে হবে, ক্রিকেটাররা কোথায় থাকবে-সব কিছুই একটা ছক কষে তৈরি করা।’

আকরাম খান যোগ করেন, ‘এখন আমরা সফর হবে ধরেই আগাচ্ছি। তবে এটা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে সফর এখনও অনিশ্চিত। লঙ্কানরা আমাদের আজ পর্যন্ত কোনই জবাব দেয়নি। আমরা পত্র-পত্রিকায় পড়ছি। কিন্তু খোদ লঙ্কান বোর্ড থেকে আমাদের কোনো কিছুই জানানো হয়নি। তারা আমাদের দাবি মেনে নিয়েছে বা নিবে কি না, তাও জানি না।’

এরকম প’রিস্থিতিতে সফরের নিশ্চয়তা কতটা? এ প্রশ্নর জবাব দিতে গিয়ে আকরাম খান দ্বিধান্বিত। তার ব্যাখ্যা, ‘আসলে কোয়ারেন্টাইন ইস্যুতে লঙ্কান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনড় অবস্থানের কারণে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড আমাদের কিছু জানাতে পারছে না। কারণ বিষয়টি তো আর লঙ্কান বোর্ডের হাতে না। সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। এখন লঙ্কান বোর্ডও তাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবুজ স’ঙ্কেতের দিকেই তাকিয়ে। ধারণা করছি সেখান থেকে কোনোরকম ইতিবাচক সঙ্কেত না পাবার কারণেই বিসিবিকে উত্তর দিতে পারছে না তারা।’

কিন্তু এভাবে আর কতদিন অপেক্ষা? শেষ পর্যন্ত যদি সফর না হয়, তাহলে কি করবেন? আকরাম খানের জবাব, ‘আসলে আমরা আমাদের প্রস্তুতিটুকু নিয়ে রাখছি। সফর হলে যাতে আর কোনো সমস্যা না হয়। যথাসময়ে দল শ্রীলঙ্কা যেতে পারে, তার আগের যা যা করণীয়, তা করা হচ্ছে। এখন সফর না হলে আর কি করা! তখন আমরা বিকল্প বেছে নেব। হয়তো ঘরোয়া ক্রিকেট চালুর কথা ভাবব। এখন আমরা যা করছি তা সফর হবে ধরেই। আর অর্থ খরচ নিয়ে ভাবছি না। এটা তো আমাদের পরিকল্পনায়ই ছিল। আমরা ক্রিকেটারদের সবভাবে প্রস্তুত রাখছি। এখন সফর বাাতিল হলে তো আর কিছু করার নেই।’