ধন্নিপুর গ্রামে পাঁচ একর জমির উপর কাবা শরিফের আদলে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা

ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জায়গায় হচ্ছে রাম মন্দির। মোদি সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, রাম মন্দিরের জায়গা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ধন্নিপুরে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে তার লোগো। কিছুটা এগিয়েছে নির্মাণের প্রাথমিক কাজও। তবে এ মসজিদটির আকার কেমন হবে আর নামটাই বা কী হবে, তা নিয়ে চ’রম আগ্রহ রয়েছে মুসলমানদের মধ্যে।

রোববার এ বিষয়ে মুখ খুললেন মসজিদ তৈরির দায়িত্বে থাকা ইন্দো-ইসলামিক কালাচারাল ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের সম্পাদক ও মুখপাত্র আতাহার হুসেইন। তিনি জানিয়েছেন, মক্কার বিখ্যাত মসজিদ আল হারামের (যা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান কাবাকে ঘিরে তৈরি) আদলেই তৈরি হবে এই মসজিদ।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আতহার হুসেইন বলেন, ১৫ হাজার বর্গফুট জায়গায় নির্মাণ করা হবে এই মসজিদ। বাবরি মসজিদের আয়তনও এমনটাই ছিল। তবে বাবরি মসজিদ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন নকশায় তৈরি হবে মসজিদটি।

তিনি জানান, এটি কাবা শরিফের মতো চৌকো গড়নের হতে পারে। তবে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূ’ড়ান্ত সিদ্ধা’ন্ত হয়নি।

মসজিদ আল হারামের যেমন কোনো গোল মাথা বা গম্বুজ নেই, তেমনই হতে পারে অযোধ্যার মসজিদও। এ বিষয়ে স্থপতিদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। আতহার হুসেইন জানান, এই মসজিদটি বাবরির নামে হবে না। এমনকি অন্য কোনো রাজা-মহারাজের নামেও হবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই, একে ধন্নিপুরের মসজিদ বলেই সবাই চিনুক।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই অযোধ্যায় নতুন মসজিদ নির্মাণ করতে ইন্দো-ইসলামিক কালাচারাল ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট গঠন করে উত্তর প্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড। এরপর থেকেই রাম মন্দিরের জায়গা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ধন্নিপুরে একটি মসজিদ তৈরি পরিকল্পনা শুরু হয়। বর্তমানে ওই জায়গায় থাকা সরকারি ফার্মে চাষের জমির পাশাপাশি একটি দরগাও রয়েছে। সেখানেই ১৫ হাজার বর্গফুটের একটি মসজিদ তৈরির প্র’স্তুতি চলছে।

২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর বাবরি মসজিদ মামলার রায় ঘোষণা করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়, অযোধ্যার বিতর্কিত ওই ২ দশমিক ৭৭ একর জমিতে গড়ে উঠবে রাম মন্দির। আর অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মসজিদের জন্য বরাদ্দ করা হবে পাঁচ একর জমি। মন্দির ও মসজিদ নির্মাণে হিন্দু ও মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের আলাদা দুটি সংস্থাকেও দায়িত্ব দেন আদালত।

রায় অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট গত আগস্টে অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে শুরু করেছে রাম মন্দির নির্মাণ। আর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মসজিদ নির্মাণের জন্য অযোধ্যার ধন্নিপুর গ্রামে পাঁচ একর জমি বরাদ্দ দেয় রাজ্য সরকার। সেখানে মসজিদ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করতে ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করেছে উত্তর প্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড।