ডায়াবেটিসের রক্ষা কবচ জাম ফলের বীজ, ব্যবহার জানলে চমকে উঠবেন…

প্রত্যেক মানুষের শরীরে কিছু না কিছু রোগ বাসা বাধে। একদম সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ আজকাল প্রায় দেখা যায় না বললেই চলে।

বর্তমানে যত রোগ আছে তার মধ্যে অন্যতম সাধারণ রোগ হল ডায়াবেটিস। প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ এই রোগের স্বীকার হয়। এমনকি সারাবছর প্রায় ১০ লাখ লোক এই ডায়াবেটিসের কারনে মারা যান।

শরীর যখন রক্তের সব গ্লুকোজ ভাঙতে ব্যর্থ হয় তখনই ডায়াবেটিস দেখা যায়। এই জটিলতার কারনে মানুষের হার্টঅ্যাটাক, স্ট্রোক হতে পারে। ডায়াবেটিসের কারনে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে।

যত দিন যাচ্ছে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বর্তমানে ৮২ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। যখন শরীরে ইনসুলিন তৈরি হতে পারে না বা ঠিক মতো কাজ করে না তখনই ডায়াবেটিস দেখা দেয়। এই ডায়াবেটিস দুধরনের হয়, টাইপ ১ ডায়াবেটিস ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস।

টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তখন রক্তের প্রবাহে গ্লুকোজ জমা হতে থাকে। টাইপ টু ডায়াবেটিসে অগ্ন্যাশয়ে অনেক বেশি ইনসুলিন উৎপাদন হয়। অথবা হরমোন ঠিক করে কাজ করে না।

আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কি না সেটি বোঝার কয়েকটি সহজ উপায় আছে। যেমন, খুব তৃষ্ণা পাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া, বিশেষ করে রাতের বেলায়। ক্লান্ত বোধ করা, কোনো কারন ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া। প্রদাহ জনিত রোগে বাড়বার আক্রান্ত হওয়া। দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া। শরীরের কোথাও কেটে গেলে সেটা শুকোতে দেরি হওয়া।

ডায়াবেটিস এমন একটা রোগ যার কোনো সমাধান এখনও পর্যন্ত নেই। আপনি আপনার জীবনযাপন নিয়ন্ত্রিত করলে এর থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এর জন্য খাদ্যাভাসে সচেতন থাকতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে।

মসৃণ সাদা আটার রুটির পরিবর্তে ভুসিওয়ালা আটার রুটি খেতে হবে। শাক সবজি, মোটা দানার শস্য খেতে হবে। চায়ে কোনো ভাবেই চিনি খাওয়া যাবে না। পাস্তা, ড্রিঙ্কস প্যাস্ট্রি, চিনি জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। চিকিৎসকরা বলছেন অধিকাংশ লোক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলেও অর্ধেক লোক এর সম্পর্কে সচেতন নন।

জাম একটি শীতকালীন ফল। চিকিৎসকরা বলছেন জামের বীজ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জামের বীজে রয়েছে জাম্বোসাইন ও জাম্বোলাইন নামে দুটি পদার্থ যা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। জামে রয়েছে অ্যান্টি ডিউরেটিক যা ঘন ঘন মুত্র ত্যাগ আটকায়।

যেভাবে জামের বীজ ব্যবহার করবেন – জামের বীজ খুব ভালো করে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। এরপর এক সপ্তাহ রোদে খুব ভালো করে শুকিয়ে নিন। এরপর বীজের খোসা ছাড়িয়ে সবুজ অংশ বের করে নিন। সবুজ অংশগুলি ভেঙ্গে আবারও রোদে ৩ থেকে ৪ দিন শুকিয়ে নিন।

এরপর সেগুলি মিক্সিতে খুব ভালো করে গুঁড়ো করে নিন। গুঁড়ো করার পর চালনিতে চেলে তার থেকে বড় দানাগুলো বাদ দিয়ে দিন। এরপর একটি এয়ারটাইট কন্টেনারে এই গুড়ো সংরক্ষণ করুন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একগ্লাস জলে এক চা চামচ জামের বীজের গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন। আয়ুর্বেদশাস্ত্র মতে খব সহজেই নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়াবেটিস।