এন-৯৫ মাস্কই সবচেয়ে কার্যকরী, দাবি ভারতীয় বিজ্ঞানীদের

করোনা সংক্রমণ রুখতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। সেটা এতদিনে সবারই জানা। তবে কোন মাস্ক সবচেয়ে বেশি কার্যকরী, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এন-৯৫ মাস্ক নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ওই মাস্ক ব্যবহার করতে নিষেধও করা হয়। কিন্তু এবার ভিন্ন কথা বলছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো)-এর বিজ্ঞানীসহ একাধিক গবেষক জানিয়েছেন, করোনা রুখতে এন-৯৫ মাস্কই সবচেয়ে বেশি কার্যকরী। অন্য মাস্ক পরা আর মাস্ক না পরা সমান। আদতে কোনো মাস্কই করোনা রুখতে কার্যকরী নয় বলে জানিয়েছেন তারা।

গবেষকরা জানিয়েছেন, মূলত হাঁচি বা কাশির সময় মুখ থেকে নির্গত হওয়া ড্রপলেটই এই সংক্রমণের মূল কারণ। কীভাবে সেই ড্রপলেট আটকানো যায়, তা নিয়ে বিশেষ গবেষণা করেছেন ইসরোর গবেষক পদ্মনাভ প্রসন্ন সিংহ ও কর্ণাটকের শ্রী জয়দেব ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাসকুলার সায়েন্স অ্যান্ড রিসার্চের গবেষক প্রসন্ন সিংহ মোহন রাও।

ফিজিক্স অব ফ্লুইডস নামে একটি পত্রিকায় এই সংক্রান্ত গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কাশির মাধ্যমে ছড়ানো ড্রপলেট আটকাতে এন-৯৫ মাস্কই সবচেয়ে বেশি কার্যকরী।

জানা গেছে, এই মাস্ক ব্যবহার করলে ড্রপলেট ০.১ থেকে ০.২৫ মিটারের বেশি ছড়াতে পারে না। কোনও কভার না থাকলে, কাশি থেকে নির্গত ড্পলেট ৩ মিটার পর্যন্ত যেতে পারে। ফলে, সংক্রামিত ব্যক্তি এই মাস্ক পরে থাকলে সুস্থ ব্যক্তিরা সেখানে গেএও কোনও সমস্যা হবে না।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এন-৯৫ মাস্ক পরলে ০.১ থেকে ০.২৫ মিটার পর্যন্ত ছড়াতে পারে ড্রপলেট। আন্যদিকে সার্জিক্যাল মাস্কে সেটা ০.৫ থেকে ১.৫ মিটার পর্যন্ত ছড়াতে পারে। এক গবেষকের কথায়, যে কোনো মাস্ক পরে নেওয়ার থেকে আদৌ মাস্ক না পরাই ভালো।

কনুই দিয়ে মুখ ঢেকে হাঁচি বা কাশি দিলে সংক্রমণ আটকানো যায় বলে যে ধারণ আছে, সেটাও ভুল বলে দাবি ওই গবেষকদের। তাঁদের দাবি জামা না পরলে খালি হাতে থাকলে এভাবে সংক্রমণ আটকানো যায় না। তবে ওই দুই গবেষক বলেন, মাস্ক অবশ্যই পরতে হবে আর সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, কারণ মাস্ক কখনই সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে পারে না।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস।