রাশিয়ার করোনা ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পশ্চিমা বিশ্ব

রাশিয়া এ মাসের ১২ তারিখে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নিবন্ধনের ঘোষণা দেওয়ায় পশ্চিমা বিশ্ব এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাড়াহুড়ো করে ভ্যাকসিন বের করার যে সমস্যা রয়েছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতার ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে ভ্যাকসিনটি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিলে তার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে।

১২ আগস্ট বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিন হিসেবে নিজেদের তৈরি ভ্যাকসিন নিবন্ধন করবে ক্রেমলিন। তবে সবশেষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপে থাকা যে ছয়টি করোনা ভ্যাকসিনের কথা বলা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রুশ ভ্যাকসিন নেই। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এরইমধ্যে রাশিয়াকে করোনার ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে; এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির গণস্বাস্থ্য আইন বিশেষজ্ঞ লরেন্স গোস্টিন। এপিকে তিনি বলেছেন, ‘এটা ঠিক কাজের হবে না… আগে ট্রায়াল সম্পন্ন হওয়া দরকার। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

এর আগে রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) প্রধান ক্রিমিল দিমিত্রিভ জানিয়েছিলেন, প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়া তাদের করোনার টিকা বাজারে আনবে। এ ব্যাপারে ক্রিমিল দিমিত্রিভ বলেছিলেন, স্পুটনিকের মহাকাশ যাত্রা দেখে মার্কিনীরা যেমন অবাক হয়েছিল; একই ঘটনা ঘটবে করোনা ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও। বিশ্ববাসী অবাক হয়ে রাশিয়ার সাফল্য দেখবে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে গামালেয়া রিসার্চ ইন্সটিটিউট। গত শুক্রবার একথা জানিয়েছেন রাশিয়ার উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওলেগ গ্রিডনেভ। তিনি বলেন, সাফল্যের সঙ্গে এটি চালু হলে, এটিই হবে বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিন।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ ভ্যাকসিন নিয়ে রাশিয়ার দ্রুতগতির এই উদ্যোগ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি আশা প্রকাশ করেন, রাশিয়া ও চীন মানবদেহে প্রয়োগের আগে ‘ভ্যাকসিন সত্যিকার অর্থেই পরীক্ষা’ করবে।