‘ও বাবা, ও মা’ বলে কাঁদছে দুই মে’য়ে

দুই মে’য়ে আর স্বামীকে নিয়ে সুখেই কাটছিল ইয়াসমিন বেগমের সাজানো সংসার। প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালেও সংসারের যাবতীয় কাজ শেষে স্বামী হু’মায়ূন কবির ভূঁইয়ার সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু কর্মস্থলে আর যাওয়া হয়নি ইয়াসমিনের। পথেই নিভে গেল জীবনপ্রদীপ। দুই মে’য়েকে ফেলে স্বামী-স্ত্রী’ দুজনই পাড়ি জমালেন পরপারে।

বৃহস্পতিবার সকালে মানিকগঞ্জ সদরের মুলজান এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই নি’হত হন হু’মায়ূন কবির। গুরুতর আ’হত অবস্থায় মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতা’লের জরুরি বিভাগে মৃ’ত্যু হয় ইয়াসমিনের।

নি’হত হু’মায়ূন কবির ভূঁইয়া মানিকগঞ্জ সদর উপ‌জে’লার গড়পাড়া ইউপির চরগড়পাড়ার বাসিন্দা। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চাকরি করতেন। ইয়াসমিন বেগম সাভা’রের নবীনগরের পলা’শবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তিনি মুলজান পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিলিং সেক্টরে কর্ম’রত ছিলেন।

এ দম্পতির বড় মে’য়ে শোভা নবম শ্রেণির ছা’ত্রী। আর ছোট মে’য়ে ইভা পঞ্চ’ম শ্রেণির ছা’ত্রী। গড়পাড়া মাঠে মা-বাবার জানাজার আগে তাদের শেষবার দেখতে গিয়েছিল তারা। শোভা শুধু ‘ও বাবা, ও মা’ বলে আর্তনাদ করছিল। চোখে-মুখে শূন্য দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে ছিল ইভা। তাদের কা’ন্না আর আর্তনাদে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল চারপাশ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয় হু’মায়ূন-ইয়াসমিন দম্পতিকে। দাফন শেষে সবাই চলে গেলেও মা-বাবার কবরের দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল শোভা-ইভা।