সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তায় বিপথে তরুণরা

টিকটক লাইকিসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পেয়ে অনেক তরুণ জড়িয়ে পড়ছে নানা অপকর্মে। পুলিশের ভাষায়, কিশোর গ্যাং তৈরিতে প্রভাব রয়েছে এসব প্লাটফর্মের। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে।

এদিকে, এক প্রকৌশলীকে মারধরের মামলায় সোমবার উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার টিকটকের কথিত তারকা অপুকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই অবক্ষয় এড়াতে প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ। কি করছেন কিংবা কেন করছেন তা বোঝা দায়। অদ্ভুত উচ্চারণ, বাহারি চুল আর কিম্ভুতকিমাকার সাজসজ্জার তরুণ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র ইয়াসিন আরাফাত অপু। পড়াশোনা ছেড়ে একসময় কাজ শুরু করেন সেলুনে। বন্ধু-বান্ধবের মাধ্যমে খোঁজ পান টিকটক আর লাইকির রঙিন দুনিয়ার। পকেটে আসতে শুরু করে টাকা। হয়ে ওঠেন অপু ভাই। গত ২ আগস্ট, ঢাকা কাঁপাতে এসে নিজেই এখন কাপাকাপিতে।

টিকটক ঘেঁটে দেখা যায় দেড়লাখের বেশি ফলোয়ার তার, লাইকিতে সে সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। কখনো দামী বাইক, দেশি কুকুর কিংবা ঝকঝকে রেস্টুরেন্ট, রাজপথ থেকে শুরু করে আকাশ বাতাস কোনো কিছুই বাদ যায় না তার নাগাল থেকে। গত রোববার রাতে উত্তরার একটি রাস্তা আটকে অনুসারীদের নিয়ে টিকটক ভিডিও বানাচ্ছিলেন অপু। সড়কটি আংশিক ছেড়ে দিয়ে গাড়ি চলাচলের সুযোগ চাইলে, প্রকৌশলীসহ তিনজনকে মারধর করেন তারা। এ ঘটনায় মামলার পর সোমবার অপুকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ। মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে, জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ বলছে, এলাকাভিত্তিক কিশোর গ্যাংয়ের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে টিকটকসহ কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আজব নাচ আর বিদেশি ভাষার জনপ্রিয় গান দিয়ে নয়, প্রতিভা বিকাশের আরো উন্নত পন্থার সাথে সন্তানকে পরিচয় করিয়ে দিতে অভিভাবকের আহবান জানান, মনোবিশ্লেষকরা। এদিকে, যে প্লাটফর্মে এতদিন লাখো লাভ রিএ্যাক্ট আর কমেন্ট পেয়ছেন অপু ভাই, সেখানেই সোমবার রাত থেকে নিজেই পরিণত হয়েছেন নতুন হাস্যরসের উপাদান হিসেবে।