এই ষাঁড়টির দাম শুনলে হতবাক হয়ে যাবেন

কোরবানি ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন জাতের গরু নিয়ে বাজারে হাজির হয়েছেন খামারিরা। এসব গরুকে আবার ডাকা হচ্ছে বাহারি সব নামে। কোথাও কোনো গরুর নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্যন্ত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে মহামারি করোনার কারণে বেচাকেনা স্তিমিত হলেও যাদের গরু বাজারে তোলার কথা ছিল তারা কিন্তু ঠিকই তুলেছেন। প্রাণপ্রিয় পশুটিকে গ্রহণযোগ্য দামে বিক্রি করতে পারলেই হাসি ফুটবে খামারিদের মুখে।

গরু নিয়ে যখন চারদিকে এত মাতামাতি তখন প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের একটি ষাঁড়ের দেখা পাওয়া গেল ফেনীতে। এই গরুটিই এবারের ঈদের সবচেয়ে বেশি দাম হাঁকানো গরু। গরুটির মালিক এবারের ঈদে গরুটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ফেনীর সোনাগাজীর মতিগঞ্জের খামারি রিয়াজ উদ্দিনের এ গরুটি দৈর্ঘ্য ১০ ফুট এবং উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। বিশালাকার গরুটির জাতের নাম বঙ্গ ফ্রিজিয়ান। এ গরুটির দাম হাঁকানো হয়েছে ৫০ লাখ টাকা।

২০১২ সালে ৩৫ হাজার টাকায় একটি গাভী কিনে পালন শুরু করেন রিয়াজ উদ্দিন। বঙ্গ ফ্রিজিয়ান জাতের একটি ষাঁড়ের সিমেন ব্যবহার করে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ২০১৬ সালে এ ষাঁড়ের জন্ম দেয় গাভীটি। জন্মের পর বাছুরটিকে দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করার প্রক্রিয়া শুরু করেন। প্রয়োজন মতো খাবার ও পরিচর্যায় গরুর আকৃতি বাড়তে থাকে। ডিজিটাল মেশিনে মেপে গরুটির ওজন বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ কেজি পাওয়া যায়।

রিয়াজ বলেন, ষাঁড়টির খাদ্যতালিকায় রয়েছে কাঁচা ঘাস, খড়, গমের ভুসি, চালের কুঁড়া, ভুট্টা, ডালের গুঁড়া, তৈলবীজের খৈল, ছোলা ও খুদের ভাত। সব মিলে দিনে ৫০-৬০ কেজি খাবার খায় গরুটি।

রিয়াজ চৌধুরী বলেন, এ ধরনের গরু লালন-পালন খুবই কষ্টকর। পরিবারের একজন সদস্যের মতো করে তিনি গরুটি পালন করেছেন। পরিবারের সবাই মিলে যত্ন নিয়ে বড় করেছেন। অনেক শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। ৫০ লাখ টাকায় গরুটি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গরুটি তিনি কোনো হাটে না নিয়ে বাড়িতে খামারে রেখে অনলাইনে ছবি ও বিবরণ দিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতারা গরুটির দাম বলছেন অনেক কম।