অকারণেই ঘামছে হাত-পা, আসলেই কোনো অসুখ?

ঘামের পরিমাণ কখনও কখনও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়? অল্প উত্তেজনায় হাত বা পায়ের তালু ঘামানোর সমস্যা অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু চিকিত্সাবিজ্ঞান বলছে, এতে কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কারণ, এটা আদতে কোনো অসুখ নয়।

অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, উত্তেজনা যতক্ষণ স্থায়ী হয়, ততক্ষণ হাত বা পায়ের তালু ঘামাতে থাকে। বারবার ঘাম মুছলেও সহজে যায় না। আবার ঘামাতে থাকে। এরকম পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে অনেকে চিকিত্সকের দ্বারস্থ হন। এক্ষেত্রে অনেকেই দুঃশ্চিন্তায় ভোগেন। অনেকে আবার প্রচণ্ড রেগে গেলে থর থর করে কাঁপতে থাকেন। সেটা অবশ্য স্নায়ুজনিত রোগের কারণে হতে পারে। তবে হাত বা পায়ের তালু ঘামানো কোনও অসুখ নয়। তা হলে এরকম হওয়ার কারণ কী!

চিকিৎসকদের মতে, শরীরে ঘামগ্রন্থির সংখ্যা থাকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ। এক্রিন, অ্যাপোএক্রিন, অ্যাপোক্রিন ইত্যাদি অনেক ভাগ রয়েছে এই গ্রন্থির। আর হাত ও পায়ের তালুতে এক্রিনের সংখ্যাই বেশি। সেক্ষেত্রে উত্তেজনা, আনন্দ বা ভয় পেলে শরীরে অ্যাড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। যারা একটু বেশি সংবেদনশীল তাদের ক্ষেত্রে তাই ঘামানোর প্রবণতা বেশি। আবেগপ্রবণ মানুষের শরীরে অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ বেশি হয়।

উত্তেজনা অনেক সময় শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরের ভিতর জলীয় পদার্থ বের হয়। আর সেটাই হাত বা পায়ের তালু দিয়ে ঘামের আকারে বের হয়। তবে হাত বা পা সব সময় ঘামানোটা অসুখ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যার নাম হাইপার হাইড্রোসিস। এটি হরমোনাল ডিজিজ।

চিকিৎসা
সঠিক কারণ বের না করে চিকিৎসা করা উচিত নয়। আগে অনুসন্ধান বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কারণ খুঁজতে হবে। তারপর সঠিক চিকিৎসা নিলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সাধারণত বিভিন্নভাবে হাত-পা ঘামা কমানো যেতে পারে। অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত একধরনের বিশেষ লোশন হাত-পায়ে ব্যবহার করলে হাত-পা ঘামা কমে যায়। বিশেষ ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রে হাত-পা সেকে নিলে হাত-পা ঘামা কমে যাবে। পরবর্তী সময়ে এটি দেখা দিলে আবার একইভাবে সেই বৈদ্যুতিক যন্ত্রে হাত-পা সেকে নিতে হবে। এসব পদ্ধতি ছাড়াও একটি বিশেষ ধরনের নার্ভের অস্ত্রোপচার করেও হাত-পা ঘামা কমানো যায়।