বুড়িগঙ্গা সেতুকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা

রাজধানীতে শ্যামবাজারের সোমবার সকালে এমএল ‘মর্নিং বার্ড’ নামে লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে যাত্রী নিয়ে সদরঘাটের দিকে আসছিল। শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গায় ‘ময়ূর-২’ নামের আরেকটি বড় লঞ্চের ধাক্কায় সেটি ডুবে যায়। সদরঘাটে ডুবে যাওয়া লঞ্চ ‘মর্নিং বার্ড’ উদ্ধারে আসা উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়ের’ ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত বুড়িগঙ্গা সেতু ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। পাশাপাশি ওই সেতুতে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তীতে কী পরিমাণ ওজন নিয়ে যানবাহন চলাচল করবে তা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানিয়ে দেবে সওজ।

সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা অঞ্চল) সবুজ উদ্দিন খান বলেন, ‘সেতুর একটি জায়গায় ফাটল দেখা দেয়ায়, রাতে যানবাহন চলাচল স্থগিত করা হয়। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পোস্তগোলায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-১ (প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতু) আমরা এক্সপার্ট টিম বিশেষজ্ঞ দলসহ পরিদর্শন করেছি। এক্সপার্ট টিম তারা তাদের মতো করে কী ধরনের রিপেয়ার করলে ঝুঁকিমুক্ত হবে সে ধরনের ডিজাইন করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে‌ সেতুটির ওপর যানবাহন চলাচল সীমিত করে করে দেয়া হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে ব্রিজের ওপর চার লেনের দুটি বন্ধ করে দেয়া হবে। সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

কবে নাগাদ সেতুটি ঝুঁকিমুক্ত হবে বা রিপেয়ারিংয়ের কাজ সম্পন্ন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা সময়সাপেক্ষ, বেশ সময় লাগবে। আগামীকাল বুধবার আমাদের আরও অনেক ইকুইপমেন্ট আসবে। ব্রিজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ স্ক্যান করা হবে, এক্সরে এর মতো করে ভেতরের অবস্থা দেখা হবে যে কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে। সেটা দেখার পরে পরবর্তী ট্রিটমেন্ট ঠিক হবে। এজন্য বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।’

প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে বড় একটি লঞ্চের ধাক্কায় সদরঘাটের কাছে বুড়িগঙ্গাায় ডুবে যায় মর্নিং বার্ড নামের একটি ছোট লঞ্চ। দুর্ঘটনার পর এ পর্যন্ত ৩৩ জনের লাশ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।

ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধারের জন্য সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসছিল উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়। কিন্তু পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় পোস্তগোলার বুড়িগঙ্গা সেতুর নিচ দিয়ে সেটি আসতে পারেনি। বরং জাহাজের ধাক্কায় সেতুর মাঝামাঝি জায়গায় গার্ডারের অংশে ফাটল দেখা দেয়।