একসঙ্গে কোরআনের হাফেজ হলেন ফিলিস্তিনের যমজ চার বোন

ইসরাইলি আগ্রাসনের শিকার যু’দ্ধবিধ্ব’স্ত দেশ ফিলিস্তিন। সর্বদা আত’ঙ্ক, বুলেট-বো’মার আওয়াজ, স্বজন হারানোর বেদ’না ও হাজারো অনিশ্চয়তার মুখে জীবন বাঁচানোর সংগ্রামে যাদের দিনরাত অতিবাহিত হয় সেই সমাজের ছোট্ট শিশুদের কীর্তি আলোচিত হয় একটু বেশিই। এমনই এক অনন্য কীর্তি গড়লেন ফিলিস্তিনের যমজ চার বোন। জীবন সংগ্রামের সঙ্গে সঙ্গে কোরআনে কারিম হেফজের (মুখস্থ) সংগ্রামেও জয়ী হয়েছেন তারা।

এক সঙ্গে জন্মলাভকারী ফিলিস্তিনি চার বোন একসঙ্গে পবিত্র কোরআন হেফজ করে রচনা করলেন নতুন ইতিহাস। ফিলিস্তিনের অধিবাসী ১২ বছর বয়সী দীনা, দীমা, সুজান এবং রাজান শানিতী নামে যমজ এই চার বোন পুরো কোরআন মুখস্থ করে অনন্য কীর্তি গড়েছেন। তারা ফিলিস্তিনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেরুজালেমের ‘উম্মুল তুবা’ নামক গ্রামে বসবাস করেন। তাদের বাবা যু’দ্ধে পা হারিয়ে স্থানীয় বাজারে ফলের ব্যবসা করেন।

মায়ের তত্ত্বাবধানে তারা এমন কীর্তি গড়েছেন। হাফেজ হওয়ার পর তাদেরকে বিশেষ সম্মাননাও জানানো হয়েছে। ওই সম্মাননা অনুষ্ঠানে সবার বড় বোন সুজান বলেন, ‘আমাদের কোনো ভাই নেই। আম্মার খুব ইচ্ছা ছিলো, আমরা যেন কোরআন মুখস্থ করি। তিনি প্রায় আমাদের শিক্ষককে বলতেন, আমার আর কিছু চাওয়ার নেই। ওরা কোরআনের হাফেজ হলে আমার কোনো দুঃখ থাকবে না।

আজ আমরাও খুশি- আম্মাকে খুশি করতে পেরে।’সম্মাননা অনুষ্ঠানে তারা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী এ কথা জানার পর, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই চার বোনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। অনেকে তাদের উচ্চ শিক্ষার দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা ঘোষণা দিয়েছেন, এই চার বোনের শিক্ষার সব দায়িত্ব তারা বহন করবে।

মুসলিমরা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করায় এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সুখী বলে এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। সুখীদের এই তালিকায় মুসলিমদের পরে আছে যথাক্রমে খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও হিন্দুরা। অন্যদিকে নাস্তিকরা সবচেয়ে বেশি অসুখী। জার্মানির ম্যানহেইম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ৬৭ হাজারের বেশি মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে এই তালিকা করেছে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদন অনুসারে, গবেষণাপত্রটি আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস মুসলিমদেরকে প্রভাবিত করায় হতাশা ও উদ্বেগ তাদেরকে খুব একটা গ্রাস করতে পারে না। আরও বলা হয়, মানুষের প্রতি মুসলিমদের সহানুভূতি অনেক বেশি। এই কারণেই তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক কম।

জরিপ এবং অন্য গবেষকদের মতামতের ভিত্তিতে গবেষণাপত্রটি তৈরি করেন ম্যানহেইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজিস্ট ড. লরা ম্যারি এডিনগার-স্কন্স। এই গবেষকের মতে, গবেষণাটির ফলাফলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে মানুষের সন্তুষ্টির সঙ্গে একত্ববাদের সরাসরি সম্পর্ক আছে। এই গবেষণার সঙ্গে জড়িত গবেষকদের মতে, গবেষণাটির ফলাফল ধর্ম সংক্রা’ন্ত মনস্তা’ত্ত্বিক জ্ঞা’নের ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করেছে।

তাদের মতে, এর মাধ্যমে শুধু বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর একত্ববাদের বিশ্বাসের গড় মাত্রা নয়, তাদের সন্তুষ্টিতে ধর্মের প্রভাবের বিষয়টিও বেরিয়ে এসেছে।