স্ত্রী’র স’ম্পর্কে সবার সামনে যে ৯টি কথা কখনোই বলবেন না

মিতি ও রাসেলের বিয়ে হয়েছে পরিবারের সম্মতিতে। বিয়ের এক মাস পরেই মিতি আবিস্কার করলো রাসেল ভীষণ খুঁতখুঁতে। কেবল বাসাতেই নয়, বরং কোন আত্মীয় বা কলিগের বাসাতে গেলেও মিতির নানা দোষ নিয়ে আলোচনা করে ও সবার সামনেই। মিতির রান্না ভালো না, মিতি শুধু শপিং করে টাকা ওড়ায়, সারাক্ষণ ফোনে কথা বলে ইত্যাদি, এমনকি একদিন এক নারী কলিগের সামনে এতো বলেই বসলো, “ইশ! আমা’র বউটা যদি আপনার মত সুন্দর হতো!”

মিতির ভীষণ ক’ষ্ট হয়। কিন্তু কাউকে বলতেও পারে না ও! ওর শুধু মনে হয়, রাসেল তো তার স্বামী, সবার সামনে এভাবে ওর দোষ নিয়ে আলোচনা না করে, ও কি পারতো না শুধু মিতিকে একা একটু বুঝিয়ে বলতে!আর এতে তো রাসেলকে নিয়েও আত্মীয়রা হাসাহাসি করে। সেটাও ভালো লাগে না মিতির। স’ম্পর্কটা এভাবেই দিন দিন খা’রাপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।পাঠক, রাসেল-মিতির ঘটনা একটা উদাহ’রণ মাত্র! কিন্তু এমনটা ঘটে প্রায়শই। তাই একটু খেয়াল রাখু’ন, নিজের স্ত্রী’ স’ম্পর্কে সবার সামনে কিছু বিষয় আলোচনা থেকে বিরত থাকুনঃ

১। আপনার রান্নার সাথে তো ওর রান্নার তুলনাই হয় নাঃ

কোথাও গেলেন, হতে পারে আত্মীয় বা কলিগের বাসায়। সেই ভদ্রমহিলা হয়তো অনেক ভালো রান্না করেন আর তা আপনার ভালোও লেগেছে। কিন্তু তাই বলে তার প্রশংসা করার জন্যে নিজের স্ত্রী’র রান্নার সাথে তুলনা দিতে যাবেন না।আপনার স্ত্রী’কে খাটো করে হয়তো আপনি অন্যের প্রশংসায় পঞ্চ’মুখ হচ্ছেন, কিন্তু আপনার জন্যে সব সময় ভালোবেসে খাবার তৈরী করার মানুষটি কি এতে ক’ষ্ট পান না? যার প্রশংসা করছেন, তার প্রশংসাই করুন। অযথা নিজের স্ত্রী’র wife সাথে তুলনা দিয়ে কেবল তাকে আপনি ক’ষ্টই দেন না, বরং নিজেও নিজের অজান্তেই সামনের মানুষটির সামনে অনেকখানিই ছোট হয়ে যান!

২। ও ভীষণ ঝগড়াটেঃমান অ’ভিমান হোক বা মনোমালিন্য, দাম্পত্যে সবারই এমনটা থাকে। একটু আধটু ঝগড়া ঝাঁটি বরং স’ম্পর্ককে মজবুত করতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু এটি আপনার ও আপনার স্ত্রী’র একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটা সবার সামনে বলে স্ত্রী’র ওপর দায় চাপাতে চান অনেকেই। যা আপনার সুন্দর মানসিকতার পরিচয় দেয় না।

৩। ইশ! আমা’র স্ত্রী’ যদি আপনার মতন হতোঃঅন্য কোন নারীর সামনে এ কথাটা বলছেন আপনি। এর ফলে প্রথমত আপনার স্ত্রী’ যে কী’ ভীষণ ক’ষ্ট পান, তা কি আপনই জানেন? আর যাকে বলছেন, তিনিও আপনাকে একজন হীনমন্যতায় ভোগা অ’সুখী ব্যক্তি ভেবে করুণা ছাড়া আর কিছুই করবেন না।

৪। ও আগে পারতো এখন আর পারে নাঃআপনার স্ত্রী’ হয়তো আগে গান গাইতেন, লেখালিখি বা নাচ করতেন। বিয়ের পর সাংসারিক ঝামেলায় হয়তো তার চর্চা নেই। কিন্তু তাই বলে সবার সামনে তার প্রতিভাকে ব্যর্থতায় ঢেকে দেবেন না। কেননা তিনি যা প্রতিভা’র অধিকারী তার চর্চা করলে আবারো পারবেন। তাই তার প্রতিভা’র সম্মান দিন।

৫। আমা’র স্ত্রী’ তো আপনার স্ত্রী’র মত সুন্দরী নাঃএটির মত নোংরা কথা জগতে দ্বিতীয়টি নেই। আপনার স্ত্রী’র সামনেই যদি অন্য কোন নারীকে এ কথা বলার অভ্যাস থাকে। তবে এটি তো আপনার স্ত্রী’কে ক’ষ্ট দেয়ই আর সবার সামনে আপনাকে কিছুটা চারিত্রিক ত্রুটিসম্পন্ন হিসেবেও প্রমাণ করে।

৬। আমা’র বাসার বাইরে বন্ধুদের সাথে সময় কা’টাতেই ভালো লাগেঃএর মানে আপনি যাই দাঁড় করাতে চান না কেন, সবার সামনে এর একটাই মানে দাঁড়ায়, আপনি আপনার স্ত্রী’র সাথে দাম্পত্যজীবনে সুখী নন। এ কথাটি আপনার মনেই রাখু’ন।৭। ওকে সব পোষাক মানায় নাঃআপনার স্ত্রী’ হয়তো অ’তিরিক্ত মোটা বা শুকনো। তাই বলে সবার সামনে তার ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা কি উচিত বলুন? আপনার স্ত্রী’কে কোন বিশেষ পোষাক না মানালে তাকে সেটি ঘরেই বলুন। ব্যক্তিগত কথা সবার সামনে প্রচারের কোন মহিমা নেই।

৮। ওর চেয়ে ভালো মে’য়েকে বিয়ে করতে পারতাম আমিঃ“পারতেন তো করেন নি কেন?” শুধু আপনার স্ত্রী’ই নয়। এমন কথায় হাসবে অনেকেই। এতে আপনার নিজের অসম্মান ছাড়া আপনার স্ত্রী’র কোন অসম্মান নেই। এসব কথা বলে যতটা না আপনার স্ত্রী’কে ক’ষ্ট দিচ্ছেন আত্র চেয়ে সবার সামন এহাসির পাত্রেই পরিণত হচ্ছেন আপনি।

৯। ও তো অনেক খরচ করে, মিথ্যা বলেঃদয়া করে বাইরের মানুষকে নালিশ করা বন্ধ করুন। আপনার স্ত্রী’কে ওরা পরিবর্তণ করতে পারবে না। পারলে আপনিই পারবেন। তাই খরচ কমাতে বাজেট করুন। মিথ্যা কমাতে আপনার উপর আস্থা তৈরীর চেষ্টা করুন।স্বামী স্ত্রী’র স’ম্পর্ক একান্তই ব্যক্তিগত। তাই নিজ স্ত্রী’র স’ম্পর্কে About his wife সবার সামনে এমন কোন কথা বলবেন না, যা তাকে হেয় করে। তিনি হেয় হলে কিন্তু আপনারও ইমেজ কমে বৈ বাড়ে না। ভালো থাকুন।