ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কি প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাশালী?

২০১৮-১৯ বাজেটের সময়ই গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে নির্দেশ দেন নিম্নস্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রে কোনো বিদেশি ব্র‍্যান্ড আর গ্রহণযোগ্য হবেনা।

দেশীয় তামাকজাত পণ্য উৎপাদন কোম্পানিগুলোকে রক্ষা করতেই এমন নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রীও বাজেট বক্তব্যে একথা উল্লেখ করেন এবং সে অনুযায়ী নির্দেশনা প্রেরণ করেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে। কিন্তু এতোদিন চলে গেলেও আজও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে চলেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো এবং তাদের ব্যবসাও বাড়ছে বহাল তবিয়তে।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং ধূমপায়ীর সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নিম্নস্তরে সিগারেটের প্রতি দশ শলাকার মূল্য ২৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে, বিদেশী ব্র‍্যান্ডের সিগারেট শুধুমাত্র মধ্যম ও উচ্চস্তরে তৈরী করা যাবে। নিম্নতম স্তরে কোনো বিদেশী ব্র‍্যান্ড আমরা এলাউ করবোনা, এটা শুধুমাত্র দেশী শিল্পের জন্য তথাপি দেশী ব্র‍্যান্ডের জন্য রিজার্ভ থাকছে। ”

প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি ক্রমে অর্থমন্ত্রীর এমন নির্দেশের পরও নিম্নস্তরের সিগারেট উৎপাদন এবং তা ২৭ টাকায় সরবরাহ করা অব্যাহত রেখেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। অন্যদিকে নির্দেশনা মেনে ৩৫ টাকায় সিগারেট সরবরাহে বাধ্য হয়ে বাজার হারাচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। ফলে বন্ধ একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশীয় তামাকজাত কোম্পানির কারখানাগুলো। আর এতে বেকার হতে বসেছে প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক।

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর এমন লাগামহীন আচরণে অবাক হয়েছেন দেশের নীতিনির্ধারকেরা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বারের মতোন সরকারের প্রধান। দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার নির্দেশ বিনা দ্বিধায়, দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করে সব প্রতিষ্ঠান ও অধিদপ্তরগুলো । এমন পরিস্থিতিতেও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর এহেন কাজ অবাক করেছে সবাইকে। আসন্ন বাজেটে প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করতে পারেন বলে ইতিমধ্যেই কানাঘুষা শুনতে হয়েছে বিভিন্ন মহলে।