হজ পালন করতে সাইকেল চালিয়ে মক্কায়

সামর্থবান মুসলমানদের জন্য হজ একটি অত্যাবশ্যকীয় ইবাদত। তাছাড়া পবিত্র ঘর কাবা

শরীফ স্পর্শ করার ইচ্ছে কার মনে না জাগে। প্রতিবছরই লাখ লাখ মানুষ হজ করার উদ্দেশ্যে

মক্কায় যান। যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে সবাই বিমানকেই বেছে নেন। তবে মাঝেমধ্যে সাইকেলে মক্কা যাওয়ার খবরও শোনা যায়। তেমন তিনটি ঘটনা নিয়ে এ আয়োজন-
ব্রিটিশ তরুণদের ‘ট্যুর দ্য হজ’

যাত্রা শুরু হয় ২০১৯ সালের ৭ জুলাই লন্ডন থেকে। ৫৯ দিনে পেরিয়েছেন ১৭ দেশ। অম্ল-

মধুর দীর্ঘ এ পথ পাড়ি দিয়ে ৮ ব্রিটিশ তরুণ পৌঁছান প্রিয়নবীর শহর মদিনা মুনাওয়ারায়।

ব্রিটিশ গ্রুপটি এর নাম দিয়েছেন ‘ট্যুর দ্য হজ’। যাত্রা থেকে ৬০ দিনের ভেতর সৌদিতে
পৌঁছানের আশা ছিল তাদের, তবে কাঙ্ক্ষিত স্থান পৌঁছে যান একদিন আগেই। এ যাত্রায় ৪

হাজার মাইল অতিক্রম করতে হয়েছে। ১৫টি দেশ সাইকেল চালিয়ে পেরুলেও সিরিয়া ও ইরাক বিমানে পাড়ি দিয়ে মিসরে পৌঁছান তারা। এর আগে লন্ডন থেকে ২০১৭ সালেও একটি গ্রুপ সাইকেলে হজ পালনে পবিত্র নগরী মক্কায় যান।

চার কেনিয়ান নাগরিকও সাইকেল চালিয়ে হজে গিয়েছিলেন। তারা হলেন মোহাম্মদ জহির

(দলপতি), ওসমান ইদরিসা, মোহাম্মদ সালিম ও আনোয়ার মানসুর। কেনিয়া থেকে যাত্রা

শুরু করে তারা ইথিওপিয়া ও উত্তর সুদান অতিক্রম করেন তারা। এরপর ফেরিতে করে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে সৌদির জেদ্দা বন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে তারা পবিত্র হজ পালনে মক্কায় পৌঁছান। তাদের সময় সময় লেগেছিল ৪৫ দিন।

বিশ্বের সর্বাধিক মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া। দেশটি থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক

মুসলিম হজ ও ওমরা পালনে সৌদি আরব গমন করে থাকেন। সাধারণত আকাশপথেই এই ধর্মীয় কাজটি পালন করতে যান তারা। কিন্তু ২০১৮ সালে হাজারো দ্বীপপুঞ্জের দেশটি থেকে

পাঁচ সদস্যের এক পরিবার বাইসাইকেল চালিয়ে মক্কায় যান হজ পালন করার জন্য। এই

পুণ্যের যাত্রায় ছিলেন মুসলিস আবদুল্লাহ (৪৭), তার স্ত্রী জুলিয়ান্তি হুসিন (৪৭), তাদের সন্তান মির্জা হাকিম (১৫), আহমদ জাকি হাফিজ (১১) এবং ছয় বছর বয়সী অলিভিয়া

ইয়ুমনা। তাদের দিক-নির্দেশনায় সঙ্গে ছিলেন মুসলিসের বন্ধু মোহামেদ দামাহুরি মুতালিব (৬২)।

শুধু সাইকেল নয় পায়ে হেঁটেও হজ পালন করেছেন অনেকে। এরমধ্যে অন্যতম বসনিয়ার

সেনাদ হাদজিক। ২০১২ সালে ৪৭ বছর বয়সী ওই বসনিয়ান নাগরিক পায়ে হেঁটে পবিত্র মক্কা নগরীতে গিয়ে পৌঁছান। এ যাত্রায় তাকে ৫ হাজার ৯০০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হয়।