দিনাজপুরে ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার প্রতিরোধক ‘চিয়া’ চাষ

দিনাজপুরে ডায়াবেটিস – পুষ্টি ও ওষুধি গুণ সম্পন্ন লাভজনক ফসল ‘চিয়া’ বীজ বাংলাদেশে

চাষের সফলতা পেয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার পর দিনাজপুরের এক কৃষক চিয়া বীজের চাষে সফলতাও পেয়েছেন। স্বল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় দিনাজপুরের

কৃষক নুরুল আমিন বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ শুরু করেছেন। বাংলদেশের জলবায়ু ও মাটি এই

চিয়া ফসলের চাষ উপযোগী। তাই বাংলাদেশে রবি ফসল চাষযোগ্য যে কোনো জমিতে ‘চিয়া’ চাষ সম্ভব। কৃষকরা সহজেই এই বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে পারবেন।

ওষুধি গুণ সম্পন্ন দানাদার ফসল চিয়ায় প্রচুর এন্টি অক্সিডেন্টসহ প্রোটিন রয়েছে। এটি

ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সক্ষম। তাই বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চিয়া ফসল ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে এমনটাই বলছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মশিউর রহমান।

মেক্সিকো, গুয়েতেমালা, কানাডা ও কলম্বিয়াসহ কয়েকটি দেশে ওষুধি ফসল হিসেবে চিয়া চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশে চিয়ার পরিচিতি ও ব্যবহার কম হলেও আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন

দেশে এর চাহিদা ব্যাপক। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং এটি লাভজনক হওয়ায় অনেকে এর চাষ

সম্পর্কে জানতে দিনাজপুরের নুরুল আমিনের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এর চাষ

সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে একদিকে কৃষক লাভবান হবেন, অন্যদিকে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ অবদান রাখবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মশিউর রহমান ২০১৬ সালে কানাডার এক বন্ধুর

কাছ থেকে এক কেজি চিয়া বীজ পেয়ে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব খামার গবেষণাগারে প্রথম চিয়া চাষ করেন। তাতে সফল হওয়ায় পরিচিত কৃষক নুরুল আমিনকে চিয়ার বীজ দিয়ে চাষে সহযোগিতা করেন তিনি।

দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরবন গ্রামের কৃষক নুরুল আমিন পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্যের

পর এবার ৪৫ শতক জমিতে এই চিয়া ফসলের চাষ করেছেন। কিছুদিন আগে নুরুল আমিনের চিয়া চাষ দেখতে সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ কৃষি স¤প্রসারণ

অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ড. মেহেদী মাসুদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত¡ বিভাগের প্রফেসর ড. মশিউর রহমান এবং হর্টিকালচারে পরিচালকসহ একদল ঊর্ধ্বতন কৃষিবিদ।

এ ব্যাপারে সুন্দরবন গ্রামের কৃষক নুরুল আমিন বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের

কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মশিউর রহমানের সহযোগিতায় ২০১৭ সালে প্রথম পাঁচ

শতক জমিতে ১০ কেজি চিয়া চাষ করি। এই বীজ নিয়ে ৪৫শতক জমিতে চাষ করছি। তিনি বলেন, অক্টোবর মাসে চিয়া বীজ বপন করতে হয় এবং ১১০-১২০দিন পর এর ফল পাওয়া

যায়। আমার ৪৫ শতকে ১০০ কেজি চিয়া পাওয়া যাবে। দেশে এক চিয়া আমদানিকারকের কাছে এই চিয়া প্রতি কেজি এক হাজার টাকায় বিক্রি করবেন বলে জানান তিনি।