বাংলাদেশে মিয়ানমারের মোবাইল নেটওয়ার্ক

বাংলাদেশে মিয়ানমারের – বাংলাদেশের ভেতরেও পাওয়া যাচ্ছে মিয়ানমারের মোবাইল নেটওয়ার্ক। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী

বাসিন্দারা মিয়ানমারের মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন। কক্সবাজার এলাকায় মিয়ানমারের একাধিক অপারেটরের সিমকার্ডও বিক্রি হচ্ছে।

যদিও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাংলাদেশি মোবাইল নেটওয়ার্ক ও সিম বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি আছে। ১৫ জানুয়ারি, বুধবার সমকালের এক

প্রতিবেদনে এতথ্য উঠে আসে। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এ অবস্থা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। সম্প্রতি টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক

সংস্থা বিটিআরসির পর্যবেক্ষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের শরণার্থীবিষয়ক সেল থেকে

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মিয়ানমারের মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে বলে জানানো হয়। বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর সেখানে প্রাথমিক

পর্যবেক্ষণে মিয়ানমারের বেতার তরঙ্গের কাভারেজ বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে ঢুকে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় বিটিআরসি। এরপর

সেখানে একটি কারিগরি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই তাদের সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে।

মিয়ানমারে ব্যবহৃত বেতার তরঙ্গ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের বিষয়টি আন্তর্জাতিক টেলিকম ইউনিয়নের নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ গত ২ জানুয়ারি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নেটওয়ার্ক কাভারেজ বন্ধ করতে মিয়ানমারকে বার্তা দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মিয়ানমার থেকে আগত মোবাইল নেটওয়ার্কের সিগন্যাল এখন বাংলাদেশের ১০

কিলোমিটারের বেশি এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে এ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশি মোবাইল

ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা আরোপ করা হলেও মিয়ানমারের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সব ধরনের মোবাইল যোগাযোগ চালিয়ে যেতে

পারছে রোহিঙ্গারা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের শরণার্থীবিষয়ক সেল থেকে জানানো হয়, কক্সবাজারের উখিয়া এলাকায় মিয়ানমারের একাধিক

মোবাইল অপারেটরের সিমকার্ড কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। গোপনে এই সিমকার্ড বিক্রি হচ্ছে ক্যাম্প এলাকায়।

বাংলাদেশে মিয়ানমারের নেটওয়ার্ক পাওয়ার বিষয়টি সত্য বলেও জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন

, ‘মিয়ানমারের মোবাইল নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে সীমান্তের ভেতর থেকে ব্যবহার করা যাচ্ছে। কারণ তাদের বেতার তরঙ্গের কাভারেজ

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিস্তৃত হয়েছে। এটা আন্তর্জাতিক টেলিকম ইউনিয়নের নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কিন্তু বাংলাদেশের এ ব্যাপারে

কারিগরিভাবে তেমন কিছু করার নেই। কেবল নেটওয়ার্ক জ্যামার বসানো যেতে পারে, কিন্তু এর জন্য কয়েক হাজার জ্যামার কিনতে হবে, যা

অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং একই সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকিও সৃষ্টি করবে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারের নেটওয়ার্ক যাতে বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে আসতে না পারে, সে ব্যাপারে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে পারাটাই হবে সবচেয়ে ভালো সমাধান।’