বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা নুরুল ইসলাম মইজপুরী আর নেই, জানাজায় মানুষের ঢল

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা নুরুল ইসলাম মইজপুরী (৭০) আর নেই। তিনি রবিবার সকাল ৮টায় সিলেট নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ই’ন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধ’ক্যজনিত রোগে ভু’গছিলেন। তিনি মৃ’ত্যুকালে স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ৫ কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। রবিবার রাত ৮টায় মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার নামাজে হাজার হাজার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন মরহুমের ছেলে ও খলিফা হাফিজ মাওলানা জুনাঈদ আহমদ। জানাজার নামাজ শেষে তাকে উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের মইজপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মরহুমের জানাজার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ বেলাল,

গহরপুর মাদরাসার মুক্তামিম মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন, বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাহিদ মিয়া, জেলা খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আবদুল ওয়াদুদ, বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সভাপতি আবদুল মতিন, সংগঠক মাওলানা রেজাউল করিম জালালী প্রমুখ।

এদিকে, রবিবার মাওলানা নুরুল ইসলাম মইজপুরীর মৃত্যুত্বে এলাকায় শো’কের ছায়া নেমে এসেছে। শেষবারের মতো মাওলানা নুরুল ইসলাম মইজপুরীকে একনজর দেখতে মরহুমের বাড়িতে রবিবার সকাল থেকে হাজার হাজার জনতার ঢল নামে। সিলেট জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন যানবাহান নিয়ে লোকজন তাকে দেখতে ও জানাজায় অংশগ্রহণ করতে ছুটে আসেন। মরহুমের জানাজার নামাজে জনতার ঢল নামে।

হযরত মাওলানা নূরুল ইসলাম মইজপুরী বর্ণাঢ্য জীবন: ১৯৪০ সালে মাওলানা নূরুল ইসলাম মইজপুরী বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের মইজপুর (তাতালপুর গ্রামে) জন্মগ্রহণ করেন।

ছোটবেলা থেকেই তিনি ইসলামী শিক্ষার প্রতি আকর্ষণবোধ করেন। পরে তিনি ভর্তি হন বালাগঞ্জ উপজেলার গহরপুর মাদ্রাসায়। এই মাদ্রাসা থেকে ১৯৭০ সালে দাওরা পাস করেন এবং ১৯৭২ সাল থেকে গহরপুর মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন।

তিনি গহরপুরীর খলিফা ছিলেন। ১৯৯০ সাল থেকে বিশ্বনাথের আতাপুর মাদ্রাসায় মুহতামিম, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন দারুল-উলুম কালিগঞ্জবাজার মহিলা মাদ্রাসা এবং এই মাদ্রাসায় ২০১৭ সালে মুহতামিমের দায়িত্ব লাভ করেন এবং ২০১৭ সাল থেকে বাগিছাবাজার দারুল উলুম মাদ্রাসা মুহতামিম ও সিলাম মাদ্রাসার মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসার সেবায় আমৃ’ত্যু দায়িত্বপালন করেছিলেন।