প্রথমে চুক্তি হয় হাজার টাকায় সারা রাত, পরে রাজি না হওয়ায় যা করে জব্বার

পরে রাজি না হওয়ায় যা করে জব্বার-রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় সড়কের ফুটপাথে এক না;রীর ম;রদেহ পাওয়ার যায়। এরপর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে নামে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একপর্যায়ে ঘটনা যে ঘটিয়েছে তাকেও গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম আব্দুল জব্বার (২৫)। পেশায় গাড়ির

গ্যারেজের কর্মী। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাকে সনাক্ত করার পরেই গাইবান্ধার গো’বিন্দগঞ্জ থেকে তাকে গ্রে’প্তার করে ঢাকায় আনা হয়। যে না’রীকে খু’ন করেছেন তিনি একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ইচ্ছে হলে মাঝেমধ্যে পরিচিতদের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে এ’কান্তে লি’প্ত হতেন। ডিবি বলছে, ওই

নারী গার্মেন্টসে চাকরি করলেও তিনি অনিয়মিত যৌ’নকর্মী। তবে যে কারও সঙ্গে সময় কাটান না তিনি, কেবল পূর্ব পরিচিত হলেই টাকার বিনিময়ে একান্তে লিপ্ত হন। গ্রে’প্তার করা আব্দুল জব্বার তার পূর্ব পরিচিত হওয়ায় অ’নৈতিক কাজে লিপ্ত হতে ঘটনার দিন বিকেলে যমুনা ফিউচার পার্ক এবং ফুটপাতের ফুচকার

দোকানে ঘোরাঘুরি করে। পরে সন্ধ্যায় আব্দুল জব্বারের সঙ্গে তার ভাড়া বাসায় যায়। এদিকে ওই নারীকে বাসায় আনার পরিকল্পনায় আগেই নিজের স্ত্রী-সন্তানকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিল আব্দুল জব্বার। ওই নারীকে এক হাজার টাকা চুক্তিতে সারারাতের জন্য বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই মোতাবেক সন্ধ্যায় বাসায়

গিয়েই অ’নৈতিক কাজে লিপ্ত হয় তারা। এক পর্যায়ে ওই নারী চুক্তির টাকা চান, যা দেওয়া হলে তিনি নিজ বাসায় চলে যাবেন বলে জানান। এদিকে ওই যুবক দাবি করেন তার সঙ্গে সারারাত অবশ্যই সময় দিতে হবে। সেই চাহিদা অনুযায়ী ওই নারী অস্বীকৃতি জানালে ক্ষি’প্ত হয়ে তার গ’লা টি’পে হ’ত্যা করে। হ’ত্যার পর ওই

নারীর মুখ ঝ’লসে দেওয়া হয়েছিল। এর পর তার মরদেহ কা’র্টনভর্তি করে সড়কের ফুটপাতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘ’টনাটি ঘটেছিল গত ০৮ অক্টোবর দিনগত রাতে। হ’ত্যার পরে ১০ অক্টোবর মরদেহ উদ্ধারের পর তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপরই অ’ভিযুক্তকে গ্রে’প্তারে নামে আ’ইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল

বুধবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ডিবি গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত ১০ অক্টোবর বিকেলে ভাটারা থানার ছোলমাইদ ঢালীবাড়ি এলাকায় নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিক মরদেহের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচয় নিশ্চিত

হওয়া যায়। এই ঘটনার পর ডিবি পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও অপরাধ সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে। পরবর্তীতে অপরাধীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপরই গত ১৯ অক্টোবর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, জব্বার ইয়াবা আসক্ত ছিল। খুনের পর

ভিক্টিমের মোবাইল ১ হাজার টাকায় বিক্রি করে সে ৩ পিস ইয়াবা কেনে। এসময় তার বন্ধু হীরাকে বাসায় আনে। তারা দুজন একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করে এবং ম’রদেহ গুমের পরিকল্পনা করে। এসময় ম’রদেহটি প্রথমে একটি কা’র্টনের মধ্যে রেখে পরবর্তীতে ভাঙারির দোকান থেকে আনা বড় বস্তায় ভরে। পরে রাত

তিনটার দিকে জব্বার ও হীরা মরদেহ মাথায় নিয়ে তিনতলা থেকে নামায়। পরবর্তীতে ১০০ টাকায় রিকশাভাড়া করে মরদেহটি রাস্তায় ফেলে দেয়।গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, অ’ভিযুক্তের স্বীকারোক্তিতে ওই নারীর চুরি হওয়া মোবাইল, তার ফেলে দেওয়া বোরকা এবং স্যান্ডেলসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। এই হ’ত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গ্রে’প্তারকৃত আব্দুল জব্বার আদালতে স্বী’কারোক্তিমূলক জ’বানবন্দি দিয়েছেন।bd24live