‘পূজামণ্ডপে পাওয়া কোরআন শরীফটি বাংলাদেশের নয়’

কুমিল্লা শহরের নানুয়ার দীঘিরপাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে রাখা কোরআন শরীফটি বাংলাদেশের নয় বলে জানিয়েছে পু’লিশ। ছাপা, কাগজ ও ক্যালিগ্রাফির কাজ থেকে আপাতদৃষ্টিতে এটি সৌদি আরবে ছাপা বলে মনে করছে পু’লিশ। কোরআন শরীফটি ঘটনার আগের রাতেই আনা হয়েছে বলে ধারণা করছেন ত’দন্তকারীরা।

ঘটনার পর বুধবার দুপুরে কুমিল্লা পু’লিশ গাঢ় সবুজ রংয়ের কোরআন শরীফটি নিয়ে যায়। এটি এখন মা’মলার আলামত হিসেবে কোতোয়ালী থা’নায় জিম্মায় আছে পু’লিশ এখন কোরআনটির পাতায় ও ওপরে থাকা ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাথে স’ন্দেহভাজন আ’সামিদের হাতের ছাপ মিলিয়ে দেখছে।পু’লিশ জানিয়েছে, রাত আড়াইটা থেকে ভোর সাড়ে ৬টার মধ্যে কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা হয়। সে সময়ই সরিয়ে নেওয়া হয় হনুমানের হাতে থাকা গদা। গদা নিয়ে চলে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পু’লিশ।

ফুটেজে দেখা গেছে, রাত দুইটা ১০ মিনিটে দারোগাবাড়ির ম’সজিদ থেকে কিছু একটা হাতে নিয়ে বের হচ্ছেন এক যুবক। তার গতিবিধি স’ন্দেহ’জনক।
এর এক ঘণ্টা ২ মিনিট পর আরেকটা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কুমিল্লার নানুয়াদীঘি অস্থায়ী মণ্ডপের উত্তর-পূর্বদিকের রাস্তায় ঘোরাফেরা করছেন ওই ব্যক্তি। তার কাঁধে ছিল হনুমানের হাতে থাকা গদা। পু’লিশ, পূজামণ্ডপ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাত আড়াইটা থেকে ভোর সাড়ে ৬টার মধ্যে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক ঘটনাটি ঘটে।

এদিকে কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনায় আ’লোচিত ইকবাল হোসেন স’ন্দেহে কক্সবাজার থেকে এক ব্যক্তিকে আ’ট’ক করেছে পু’লিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের কলাতলী সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে তাকে আ’ট’ক করা হয়। পরে রাতেই ওই ব্যক্তিকে কুমিল্লা জে’লা পু’লিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে কক্সবাজার জে’লা পু’লিশের অ’তিরিক্ত সুপার মো. রফিকুল ইস’লাম জানিয়েছেন।

কুমিল্লার ঘটনায় দুদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ হিসেবে ইকবাল হোসেনের নামটি উচ্চারিত হচ্ছিল। কুমিল্লা শহরের নানুয়ার দীঘিরপাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপ ও শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরী (রহ.) মাজার ম’সজিদের আশপাশে থাকা বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে শনাক্ত করা হয় বলে দাবি পু’লিশের।

গতকাল রাতে কক্সবাজার পু’লিশের অ’তিরিক্ত সুপার মো. রফিকুল ইস’লাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাতে সমুদ্রসৈকত এলাকায় স’ন্দেহ’জনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় এক ব্যক্তিকে আ’ট’ক করা হয়। পরে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য রাতেই তাকে কুমিল্লা জে’লা পু’লিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে ধরে নিতে পারেন আম’রা সেই ইকবালকেই আ’ট’ক করতে সক্ষম হয়েছি।’

এদিকে কুমিল্লার ঘটনার র’হস্য উদঘাটনে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে পু’লিশ, র‌্যা’­ব, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। ইতিমধ্যে জে’লার বিভিন্ন জায়গায় হা’মলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা আটটি মা’মলায় ৪৭ জনকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। পু’লিশ বলছে, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শনাক্ত ইকবাল হোসেন একজন ভবঘুরে, মানসিক ভা’রসাম্যহীন ও মা’দকাসক্ত।

তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, যে ব্যক্তি মানসিক ভা’রসাম্যহীন, ভবঘুরে ও মা’দকাসক্ত তিনি কেন পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রেখে আসবেন। কী’ তার উদ্দেশ্য?

গতকাল সন্ধ্যার পর কুমিল্লার পু’লিশ সুপার ফারুক আহমেদ টেলিফোনে বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে থাকা ব্যক্তিই ইকবাল হোসেন। তাকে এখনো গ্রে’প্তার করা সম্ভব হয়নি। পু’লিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক এ ঘটনার র’হস্য উদঘাটনে আম’রা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

ইতিমধ্যে সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের সঙ্গে জ’ড়িতদের শনাক্ত, গ্রে’প্তার ও বিচার নিশ্চিত করার আশ্বা’স দেওয়া হয়েছে। গতকাল কুমিল্লা আওয়ামী লীগ কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভা’র্চুয়ালি যু’ক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সব ধ’র্মের মানুষ সম্মানের সঙ্গে যুগের পর যুগ বসবাস করছে। মহান মুক্তিযু’দ্ধে সব ধ’র্মের মানুষ র’ক্ত দিয়েছে। পবিত্র কোরআন অবমাননাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় অ’প’রাধী যে-ই হোক না কেন, তার বিচার করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার পেছনে অনেকেই জ’ড়িত। অ’ভিজ্ঞ টিমের সহায়তায়, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে একজনকে ধ’রা সম্ভব হয়েছে। সে একা এ কাজ করেনি। কার নির্দেশ ও প্র’রোচনায় এই কাজ করেছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি (ইকবাল) মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না। তাই তাকে ধরতে সময় লাগছে।’

গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার নানুয়াদিঘির পাড়ের ঘটনার জের ধরে দেশের কয়েকটি জায়গায় হিন্দুদের মন্দির, বাড়িঘর ও পূজামণ্ডপে হা’মলা হয়। ওই দিন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পু’লিশের সঙ্গে সং’ঘর্ষে পাঁচজন নি’হত হন। পরদিন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে হিন্দুদের মন্দির, ম-প ও দোকানপাটে হা’মলা-ভাঙচুর চালানো হয়। সেখানে হা’মলায় দুজন নি’হত হন। এরপর রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দুদের বাড়িঘরে লুটপাট করে আ’গুন দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থা’নায় ৭১টি মা’মলা হয়েছে। গ্রে’প্তার করা হয়েছে সাড়ে ৪০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে।

এদিকে গতকাল দুপুরে পু’লিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি বেলালুর রহমানের নেতৃত্বে কুমিল্লা জে’লার ঊর্ধ্বতন পু’লিশ কর্মক’র্তাদের সঙ্গে স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির বৈঠক হয়েছে। ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে হিন্দুদের নিরাপত্তা দেওয়াসহ হা’মলায় জ’ড়িতদের শনাক্ত ও গ্রে’প্তারের আশ্বা’স দেওয়া হয়।

গতকাল সন্ধায় ত’দন্তসংশ্লিষ্ট পু’লিশ কর্মক’র্তারা জানান, ঘটনার র’হস্য উদঘাটনের জন্য ওই এলাকার ম’সজিদ ও পূজামণ্ডপের আশপাশে থাকা একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ১২টি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। সেগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করে ম’সজিদের বারান্দায় আরও তিনজন ব্যক্তির উপস্থিতি মিলেছে। তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এছাড়া আরও একাধিক ফুটেজে যে ব্যক্তিকে ইকবাল নামে শনাক্ত করা হয়েছে তাকেও গ্রে’প্তারের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার দু-তিন দিন আগেই স্থানীয় সংবাদকর্মীদের হাতে সিটিটিভি ফুটেজ চলে আসে। তার পরপরই ইকবালকে নিয়ে কানাঘুষা চলতে থাকে বিভিন্ন মাধ্যমে। স্থানীয় সাংবাদিকরাও তার পরিচয় জানার চেষ্টা করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাাহিনীর দ্বারস্থ হন তারা। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজে থাকা ব্যক্তিকে ইকবাল হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও ত’দন্তসংশ্লিষ্ট কর্মক’র্তাদের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকার করেননি। কার আগে কে সংবাদ প্রকাশ করবে, সেই প্রতিযোগিতা থেকে ইকবালের নাম প্রকাশ্যে আসে।

কে এই ইকবাল হোসেন : পু’লিশ কর্মক’র্তারা বলছেন, সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শনাক্ত হওয়ার পরই ইকবাল হোসেনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যানুযায়ী, ইকবালের বাড়ি কুমিল্লা পৌরসভা’র সুজানগরের দ্বিতীয় মুরাদপুরের বকশীনগর গ্রামে। বাবার নাম নূর আহাম্ম’দ আলম ও মায়ের নাম আ’মেনা বিবি। কখনো ম’সজিদ আবার কখনো মাজারের খাদেম ছিলেন তিনি। রাজমিস্ত্রি, নির্মাণশ্রমিক থেকে শুরু করে বাসের হেলপারের কাজও করেছেন।

কুমিল্লা সিআইডির এক ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তা বলেন, ‘এক কথায় বলতে গেলে ইকবাল একজন ভবঘুরে ও মানসিক ভা’রসাম্যহীন ব্যক্তি। তার পেছনে নিশ্চিত অনেক ব্যক্তি রয়েছে, যাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। স্ত্রী’র সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর তার বি’রুদ্ধে নারী ও শি’শু নি’র্যা’তন দমন আইনে মা’মলাও আছে। মা’দকেও আসক্তি আছে। তার বাবা মাছের ব্যবসা করেন। পু’লিশের একাধিক সংস্থার ত’দন্তে ও সিটিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই তাকে শনাক্ত করা হয়েছে।’

ইকবালকে নিয়ে র’হস্য : সিসিটিভি ফুটেজে থাকা ব্যক্তিকে চিনতে পারেননি ইকবালের মা আ’মেনা বিবি। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার বয়স হয়েছে, ছবি ঝাপসা থাকায় তিনি ছে’লেকে চিনতে পারেননি। তবে ইকবালের ছোট ভাই রায়হান পু’লিশকে বলেছেন, গেঞ্জিটি তার ভাইয়ের মনে হয়েছে। এরপরই রায়হান ও তার বাবা নূর আহাম্ম’দ আলমকে হেফাজতে নেয় পু’লিশ। তাদের মাধ্যমেই ইকবালকে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অ’ভিযান নামেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

স্থানীয়রা জানান, প্রকাশিত ফুটেজে ক্যামেরাটি যেখানে মুভ করছিল সেটি শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরী (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন একটি বাড়ির। একজন মাছচাষি তার পুকুরের নিরাপত্তার জন্য ওই মুভিং ক্যামেরাটি লাগিয়েছিলেন। ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ক্যামেরাটি ঘুরতে পারে। তবে ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলের ফুটেজ প্রকাশ হয়েছে। বাকি ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলের ফুটেজ পু’লিশের কাছে রয়েছে, যেটি প্রকাশ হয়নি। সেই ফুটেজে একজন ব্যক্তিকে রাস্তার উত্তরপাশ দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা গেছে, যাকে ইকবাল হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও বলছেন, ইকবালের বাবা নূর আলম একজন ভাসমান মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী। যে মৌসুমে যে ধরনের ফল পাওয়া যায়, তাই তিনি ভ্যানে করে বিক্রি করে থাকেন। তবে সম্প্রতি ইকবালকে তারা এলাকায় দেখেননি। তিন ভাইয়ের মধ্যে ইকবাল বড়। তার ছোট ভাই রায়হান রংমিস্ত্রির কাজ করেন। বর্তমানে নূর আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা নগরের সুজানগরের রবীন্দ্র চন্দ্র সূত্রধরের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। যদিও গত দুই মাসের ভাড়া বাকি রয়েছে বলে বাড়ির মালিক জানিয়েছেন। রবীন্দ্র চন্দ্র সূত্রধর জানান, তিনি ইকবালকে চেনেন না। তবে ইকবালের পরিবারের লোকজনকে খা’রাপ মনে হয়নি তার কাছে।

ইকবালের বোন ফারজানা। তিনি একসময় কসমেটিকস কারবারি ছিলেন। ইকবালকে মানসিক ভা’রসাম্যহীন উল্লেখ করে ফারজানা বলেন, সে ছোটবেলা থেকেই উচ্ছৃঙ্খল ছিল। খেলতে গিয়েও মা’রামা’রি করত। চু’রির অ’পবাদে গণপি’টুনির শিকারও হয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী’ চলে যাওয়ায় এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়িয়েছে। কখনো মাজারে সময় কাটিয়েছে, কখনো ম’সজিদে থেকেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ম’সজিদের কমিটির একজন জানান, পূজামণ্ডপ থেকে যে পবিত্র কোরআন উ’দ্ধার করা হয়েছে, সেটি ছিল নতুন। এ ধরনের নতুন কোরআন তাদের ম’সজিদে নেই। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পু’লিশ কর্মক’র্তা বলেন, ইকবালকে কয়েক দফায় ম’সজিদে ঢুকতে ও বের হতে দেখা গেছে। রাত ২টা ১৫ মিনিটে সর্বশেষ তাকে ওই ম’সজিদ থেকেই বের হতে দেখা গেছে।

মাজারগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে : গতকাল রাতে আ’ট’কের আগে বিকেলে ত’দন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন, ইকবালকে গ্রে’প্তার করার জন্য কুমিল্লা, সিলেট, আখাউড়া ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন মাজারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তার কাছে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস কিংবা মোবাইল ফোন না থাকায় ম্যানুয়ালি সোর্স লাগানো হয়েছে। ইকবালের আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে সম্ভাব্য সব জায়গায় অ’ভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

চাঁদপুরে ১০ মা’মলায় আ’সামি ৪ হাজার, ২৯ জন কারাগারে : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে মন্দিরে হা’মলা-ভাঙচুর ও পু’লিশের সঙ্গে সং’ঘর্ষের ঘটনায় করা মা’মলায় গ্রে’প্তার ২৯ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

হাজীগঞ্জ থা’নার ওসি হারুনুর রশিদ ইব্রাহীম খলিল জানান, মন্দিরে হা’মলা ও সং’ঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০টি মা’মলা হয়েছে। এর মধ্যে পু’লিশ বাদী হয়ে অ’জ্ঞাতপরিচয় ২০০০ থেকে ২২০০ জনকে আ’সামি করে দুটি করে মা’মলা হয়। গত কয়েক দিনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা আরও আটটি মা’মলা করেন। প্রতিটি মা’মলায় অ’জ্ঞাতপরিচয় ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আ’সামি করা হয়। এসব মা’মলায় গ্রে’প্তার ২৯ জনকে আ’দালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পীরগঞ্জে এক কি’শোরের বি’রুদ্ধে মা’মলা, হোতারা ধ’রাছোঁয়ার বাইরে : ফেইসবুকে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অ’ভিযোগে করা মা’মলার প্রধান আ’সামি ১৫ বছর বয়সী এক কি’শোরের দুই সহযোগী আল আমিন ও উজ্জ্বল গত বুধবার রাতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দি দিয়েছে। রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে এলাহী খানের আ’দালতে জবানব’ন্দি দেয় তারা।

এর আগে ফেইসবুকে ধ’র্ম অবমাননার অ’ভিযোগে ওই কি’শোরকে আ’সামি করে তথ্যপ্রযু’ক্তি আইনে মা’মলা করা হয়। এ মা’মলায় তাকে গ্রে’প্তার দেখিয়ে আ’দালতে পাঠানো হয়।

এছাড়া হিন্দুপাড়ায় হা’মলা, ভাঙচুর ও অ’গ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মা’মলায় গ্রে’প্তার ৪৩ জনের মধ্যে ৩৭ জনকে ৩ দিনের রি’মান্ডে নিয়েছে পু’লিশ। গতকাল বিকেলে রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আ’দালত-২-এর বিচারক ফজলে এলাহী খান তাদের রি’মান্ড মঞ্জুর করেন।

রংপুরের পু’লিশ সুপার বিপ্লব কুমা’র সরকার জানান, দুটি মা’মলার মধ্যে একটি মা’মলা হয়েছে হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, অ’গ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনায়। এই মা’মলায় ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে অ’জ্ঞাতনামা আরও অনেককে আ’সামি করা হয়েছে। অন্য মা’মলা’টি হয়েছে তথ্যপ্রযু’ক্তি আইনে।

ত’দন্ত কর্মক’র্তা এসআই সাদ্দাম হোসেন জানান, সোমবার রাতে ওই কি’শোরকে জয়পুরহাট থেকে আ’ট’ক করা হয়। ফেইসবুকে ধ’র্ম অবমাননার অ’ভিযোগ তুলে মাঝিপাড়ার বিভিন্ন ঘরবাড়িতে আ’গুন দেয় দুষ্কৃতকারীরা। হা’মলাকারীরা ১৮টি ঘর ও ২টি মন্দিরে অ’গ্নিসংযোগ করে। বাকি ৪৮টি বাড়িতে ভাঙচুরসহ ৬৬টি পরিবারের গবাদিপশু, স্বর্ণালংকার, টিভি, ফ্রিজ, অটোভ্যান, রেডিওসহ ঘরের ব্যবহৃত ও দামি জিনিসপত্র লুট করে।

এদিকে গত বুধবার পীরগঞ্জের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদার। তারা হা’মলা ও অ’গ্নিসংযোগে জ’ড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তির দাবি জানান।