মাছ কে`টে`ই মাসে ৯০ হাজার টাকা ইনকাম

রাজধানী ঢা’কার মাছ-বাজারগু’লোতে মাছ ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বঁ’টি’ নিয়ে বসেন কিছু লোক। ক্রে’তা মাছ কেনামাত্র তারা সেগু’লোর আঁ’শ ছা’ড়িয়ে চাহিদামত কে’টে দেন। তারা কাজটি করেন অল্প সময়ের মধ্যে। বিনিময়ে পান অর্থ। মাছের পরিমাণ অনুযায়ী পারিশ্রমিকে রয়েছে তা’রত’ম্য।

প্রাপ্য পারিশ্রমিক থেকে প্রতিদিন আয় কত ‘হতে পারে? এ প্রশ্নের উত্তরে পাঠক হয়তো একটু হ’কচ’কিয়ে যাব’েন। কিন্তু অ’বিশ্বা’স্য হলেও সত্য, রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এ পেশায় জ’ড়ি’তদের শুধু মাছ কে’টেই প্রতিদিন আয় হয় প্রায় ৩ হাজার টাকা। পুঁ’জিবি’হীন এ পেশায় তারা শুধু বসার জায়গাটি ভা’ড়া নেন। এরপর কাজের জন্য প্রয়োজন শুধু একটি বঁ’টি। কারওয়ান বাজারে এমন বঁ’টিওয়া’লার সংখ্যা প্রায় দশজন। সেখানে প্রায় ৪ বছর মাছ কা’টার কাজ করছেন সাইফুল ইস’লাম। যেখানে বসেন

জায়গাটির ভাড়া প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা। একা সব কাজ সামলে উঠতে পারেন না। এ কারণে ছোট ভাইয়ের সহযোগিতা নিতে হয়। প্রতিদিন ভোরবেলা কাজ শুরু করেন। মাঝখানে দু’ঘণ্টার জন্য মধ্যাহ্নের বি’রতি। ‘বিকেলে আবার কাজ শুরু। কাজ চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।

সাইফুল জানান, মনোযোগ দিয়ে কাজ করলে প্রতিদিন তিন হাজার টাকা আয় হয়। তবে শুক্রবার ও শনিবার কাস্টমা’র একটু বেশি পাওয়া যায়। তিনি আরো জানান, প্রতি ১ কেজি মাছ কা’ট’লে ২০ থেকে ৩০ টাকা পাওয়া যায়। পরিমাণে বেশি হলে টাকা কিছু কম নেয়া হয়। আবার ছোট মাছ কা’ট’তে সময় বেশি লাগে, তাই সেগু’লোর পারিশ্রমিক বেশি।

প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা আয় করলে মাস শেষে আয় দাঁড়ায় প্রায় ৯০ হাজার টাকা। মোট আয় থেকে প্রতিমাসে শুধু দোকান-ভা’ড়া ও সহযোগীর বেতন ছাড়া অ’তিরিক্ত কোন খ’রচ নেই বললেই চলে। মাঝে মাঝে বাজারে কিছুটা ভা’টা পড়ে। সেক্ষেত্রে আয়

কিছুটা কমে যায়। তবে প্রতিদিনকার রোজগারের সঠিক ত’থ্য প্রকাশ করতে চাইলেন না অনেকেই। এবং এই অঙ্ক যে অনেকের আরো বেশি হবে তাতে স’ন্দে’হ নেই।

এই প্রতিবেদকের সামনেই সাইফুল হোটেলের বিশ কেজি রুই মাছ কা’টা’র অ’র্ডার পেলেন। কত পারিশ্রমিক পাবেন জিজ্ঞেস করতেই মু’চকি হেসে এড়িয়ে গেলেন। তবে তার সহকারীর কাছ থেকে জানা গেল, টাকা তুলনামূলক কম পাবেন। তবে কয়েকটি

মাছের মা’থা পাবেন। যেগু’লো আবার অন্যদের কাছে ‘বিক্রি করবেন। বড় একটি রুই অথবা কাতল মাছের মা’থা ৪০ টাকা করে ‘বিক্রি করবেন বলেও জানালেন তিনি।কারওয়ান বাজারে প্রায় ৬ মাস হলো মাছ কা’ট’ছেন মো. বাবু। তিনিও প্রতি মাসে দোকান

ভা’ড়া দেন ৮ হাজার টাকা। পূর্বে তিনি রাজধানীর স্কয়ার হা’সপা’তা’লের ক্যা’ন্টিনে মাছ কা’টা’র চাকরি করতেন। মা’সিক বেতন ছিল ৩২ হাজার টাকা। বেশি আয়ের আশায় চাকরি ছেড়ে নিজেই দোকান দিয়েছেন মাছ কা’টা’র। বাবু বলেন, ‘শুরুর দিকে আয় বেশি ‘হতো। এখন একটু কম হচ্ছে। এখন বাজারে মাছের ক্রেতা কম। এজন্য আয়ও কমে গেছে।’