বহুকাল ধরে এই অপরাজিতা ফুলের গুনাগুন ও প্রাচীন টোটকা সম্পর্কে জানলে আপনি অবাক হবেন

শুধু রূপে নয়, অপরাজিতা ভেষজগুণেও অনন্য। এ গাছের কাণ্ড, পাতা, ফুল ও শিকড় বিভিন্ন রোগের মহৌষধ। সাধারণত মূর্ছা, হিস্টিরিয়া, বয়ঃসন্ধিকালীন অস্থিরতা, গলগণ্ড, ফুলা রোগ, শুস্ক কাশি, স্বরভঙ্গ- ইত্যাদি রোগে গাছের উল্লিখিত অংশগুলো কাজে লাগে।

মূর্ছা যাওয়ার সময় মূল, গাছ ও পাতা থেঁতলে ছেঁকে এক চামচ রস খাইয়ে দিলে ভালো হয়। বয়ঃসন্ধিকালীন অস্থিরতায় মূলের ছাল তিন থেকে ছয় গ্রাম পরিমাণ নিয়ে শিলে বেটে দিনে দু’বার আতপ চাল ধোয়া পানি দিয়ে সাত দিন খেলে সেরে যায়। গলগণ্ড রোগে গাছের মূল পাঁচ-ছয় গ্রাম পরিমাণ ঘি দিয়ে শিলে পিষে অল্প মধু মিশিয়ে সকাল-বিকেল সাত দিন খেলে ভালো হয়ে যায়।

শুস্ক কাশি সারাতে গাছের মূলের রস এক চা চামচ আধা কাপ অল্প গরম পানিতে মিশিয়ে নিতে হবে। সেই পানি দিনে তিনবার করে সাত দিন ১০-১৫ মিনিট মুখে পুরে রেখে ফেলে দিতে হবে। তাতে ভালো কাজ হবে। কপালের অর্ধেকটা জুড়ে ব্যথা হলে এক টুকরো মূল ও গাছ থেঁতলে রসটুকু হাতের তালুতে নিয়ে নাক দিয়ে টেনে দু’তিনবার নস্যি নিলে উপকার পাওয়া যায়।

এছাড়া আরও অনেক ধরনের রোগে অপরাজিতার লোকজ ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। অপরাজিতা আমাদের অতি পরিচিত ফুল। কারণ ফুলটি মোটেই দুষ্প্রাপ্য নয়। গাছ লতানো ও প্রায় বর্ষজীবী। পানি প্রধান শত্রু হওয়ায় স্থায়িত্ব কম। গাছের গোড়ায় পানি জমলে নিশ্চিত মৃত্যু।

বাঁশের বেড়া, গেট, রেলিং কিংবা যে কোনো বাহন পেলেই এরা বেড়ে উঠতে পারে। যৌগপত্র ১-পক্ষল, বিজোড়পত্রী, পত্রিকা পাঁচটি, কখনও কখনও সাতটি, ডিম্বাকার, শীর্ষপত্রিকা বৃহত্তম। ফুল দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মতো। আমাদের দেশে সাধারণত নীল, সাদা ও বেগুনি এই তিন রঙের অপরাজিতা দেখা যায়।

তবে সংখ্যাধিক্যে নীল অপরাজিতাই বেশি। বৃদ্ধি দ্রুত ও স্বাভাবিক হওয়ায় অনেকেই বাগানের সৌন্দর্যের জন্য নির্বাচন করেন। ইদানীং সুদর্শন ডাবল ভ্যারাইটিও চোখে পড়ে। গাছ লতা ঝোপময় ও চিরসবুজ। ফুল একপাপড়ি বিশিষ্ট, অন্য পাপড়িগুলো অপ্রস্টম্ফুটিত অবস্থায় গুচ্ছবদ্ধ থাকে। মাঝখানে একটি সাদা বৃন্ত থাকে। ফল লম্বাটে, চ্যাপ্টা ও বাঁকানো ধরনের। দেখতে অনেকটা শিমের মতো।