চকিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুর্ঘটনা থেকে বাঁচালেন মমতা!

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৌঁছনোর বেশ খানিকক্ষণ আগেই শুক্রবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে ইডেনে পৌঁছে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বি সি রায় ক্লাব হাউসের লাউঞ্জে বসেছিলেন বেশ কিছুক্ষণ।

প্রধানমন্ত্রীর প্রবেশের সময় বি সি রায় ক্লাব হাউসের গেটে চলে যান মমতা। শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা হতেই দুজনে দুজনকে বলছেন, ‘কেমন আছেন?’ এর পরে গেট পেরিয়ে ড্রেসিংরুমের মধ্য দিয়ে মাঠে ঢোকার পথে র‌্যাম্পে হঠাৎই পা পিছলে যায় শেখ হাসিনার।

কিছুটা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন প্রধানমন্ত্রী। চকিতে হাসিনাকে ধরে ফেলেন মমতা। পাশে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরাও সামলে নেন হাসিনাকে। ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

খেলা চলতে চলতেই মধ্যাহ্নভোজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। গাভাস্কার, শ্রীকান্তের মতো তারকা, অভ্যাগতরা ঠিকমতো খাচ্ছেন কি না, নিজে গিয়ে বারবার তদারক করে আসেন মমতা। দ্রুত চলে যান শেখ হাসিনার কাছে। ‘বেলা হয়ে যাচ্ছে, এখন খেয়ে নিন’।

হাসিনাকে নিয়ে খাওয়ার জায়গায় নিয়ে আসেন মমতা। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে হাসিনা ও তাঁর সঙ্গীদের আপ্যায়ণ করেন মমতা। মধ্যাহ্নভোজ শেষে বেলা তখন প্রায় আড়াইটা। মাঠ ছেড়ে শেখ হাসিনা রওনা দেন তাজ বেঙ্গলের পথে।

মমতা নবান্নে। গৃহকত্রীর মতো অতিথিদের সামলাচ্ছেন দেখে হাসতেই হাসতেই শেখ হাসিনা বলেন, ‘মমতা তো এক মুহূর্ত বসে থাকতে পারে না!

সবসময় ছুটে বেড়াচ্ছে!’ মমতাও সলজ্জ মাথা নেড়ে বলেন,সব সময়ই মনে হয় কিছু কাজ করি। এক জায়গায় বসে থাকতে পারি না।সন্ধ্যায় বৈঠকের জন্য তাজে চলে আসেন মমতা। শেখ হাসিনাকে বালুচরি স্বর্ণচরি শাড়ি, দু’টো শাল উপহার দেন মমতা।

বৈঠক সেরে ফের দু’জনেই ইডেনে। শেখ হাসিনা মমতাকে বলেন, চলো একসঙ্গে গাড়িতে যাই। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের প্রোটোকলের মধ্যে মমতা ঢুকতে চাননি। তাই শেখ হাসিনার সৌজন্যে ধন্যবাদ জানিয়ে মমতার বিনীত অনুরোধ, ‘না আমি বরং আগে যাই। আপনি আপনার মতোই আসুন।’