চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে চারশ মিটার দূরেও নিয়ন্ত্রণে ছিল বিক্রম

ল্যান্ডার বিক্রম নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল, বিক্রম চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে দুই দশমিক এক কিলোমিটার দূরে থাকা অবস্থায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অরবিটার এবং ইসরোর গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে সম্পর্ক বিছিন্ন হয়ে যায় ল্যান্ডার বিক্রমের।

তবে, গবেষণার পর ইসরো জানিয়েছে, চন্দ্রপৃষ্ঠের একেবারে কাছে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ল্যান্ডার। চন্দ্রপৃষ্ঠের চারশ মিটার দূরেও বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ইসরোর।

বিক্রমের সন্ধান পাওয়ার পর থেকেই তার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চলছে। কেন চন্দ্রযানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলো তার, সেটা খুঁজে বের করার জন্য গবেষকদের একটি দলও গঠন করা হয়েছে।

সেই গবেষকদল রেখাচিত্র গবেষণার পর জানান, ইসরোর সঙ্গে ল্যান্ডারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র চারশ মিটার দূরে। সফলভাবে চাদের মাটির একেবারে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে পৌঁছে যায় বিক্রম।

শুক্রবার রাতে বিক্রমের সফট ল্যান্ডিংয়ের সময় দেখা যায়, দুই দশমিক এক কিলোমিটার পর্যন্ত নিখুঁতভাবে পৌঁছে গেছে ল্যান্ডার। ইসরোর দেখানো রেখাচিত্রতেই দেখা যায়, স্ক্রিনের উপর যে তিনটি রেখা ছিল তার ঠিক মাঝের রেখা বরাবর নিচে নামছে বিক্রম। ওই সময় বেশ কয়েক দফায় কমানো হয়েছে ল্যান্ডারের গতি। চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে ল্যান্ডারের দূরত্ব যখন ৩-৫ কিলোমিটার, তখন মাঝের লালরেখা থেকে সামান্য দূরে সরে যায় বিক্রমের সবুজ রেখা।

তাতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। দুই দশমিক এক কিলোমিটার দূরত্বে আসার পর হঠাৎ মাঝের লাল রেখার থেকে অনেকটা নিচে নেমে যায় বিক্রমের সবুজ রেখা। তখনই নিয়ন্ত্রণ হারানো শুরু করে বিক্রম।

তার কয়েক সেকেন্ড পর একটা সবুজ বিন্দুর মতো অবস্থান দেখা যায় বিক্রমের। তারপর থেকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি চন্দ্রযানের ল্যান্ডারের। ওই বিন্দু পর্যন্ত ইসরোর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ল্যান্ডারের। পরে গবেষণা করে দেখা গেছে, ওই বিন্দুটির সঙ্গে চন্দ্রপৃষ্ঠের দূরত্ব মাত্র চারশ কিলোমিটার।

নতুন তথ্য সামনে আসার পর আবারো আশায় বুক বাঁধছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। কারণ, মাত্র চারশ মিটার উপর থেকে পড়ার পর বিক্রমের খুব একটা ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। সে কারণে বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় বের হলেও হতে পারে।