দেশ ও জাতিকে রক্ষায় ক্যাসিনো বন্ধ করতে হবে

মুসলিম উম্মাহর ঐতিহ্য ও নীতি বিবর্জিত বিজাতীয় সংস্কৃতি আধুনিক সভ্যতার বিষফোড়া ক্যাসিনো ব্যবসা ইসলাম ও মুসলিম সভ্যতার পরিপন্থী একটি গর্হিত কাজ। বর্তমান তরুণ ও যুবসমাজকে চারিত্র্যিক অবক্ষয় ও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতেই ক্যাসিনো নামক এই বিষফল আমদানি করা হয়েছে আমাদের দেশে।

ক্যাসিনো শব্দের অর্থ নাচ বা জুয়াঘর। যাকে আমাদের এলিট শ্রেণি ক্যাসিনো বলেই চেনে আর এর সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ এলিট শ্রেণির। আমাদের দেশে ক্রীড়া সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদ ইত্যাদি নামের অন্তরালে জমজমাটভাবে চলছে ক্যাসিনো ব্যবসা।

সংবাদমাধ্যমের ভাষ্যমতে, যার মূলে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রভাবশালী নেতা। সেগুনবাগিচা, মতিঝিল, কলাবাগান, তেজগাঁও এবং এলিফ্যান্ট রোডসহ বিভিন্ন স্থানে জমজমাট হয়ে উঠেছে ক্যাসিনো। গণমাধ্যম বলছে, ঢাকায় অন্তত ৬০টি ক্যাসিনো ক্লাব আছে।

সম্প্রতি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র‌্যাব-এর অভিযানে এ সব ক্লাব থেকে কোটি কোটি নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মদ ও জুয়াখেলার সরঞ্জাম উদ্ধারের খবর সবারই জানা।

মদ্যপান ও জুয়াখেলাকে ইসলামে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিন, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য -নির্ধারক কাজসমূহ- এ সব শয়তানের অপবিত্র কার্য। অতএব এগুলো থেকে বেঁচে থাক। যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও। (সূরা মায়েদা:৯০) উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহ তা’আলা মদ, জুয়াকে শয়তানের অপকর্মের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আর সামান্য সুস্থ বিবেক বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি কখনও এগুলোর সঙ্গে জড়িত হতে পারে না। ক্যাসিনো, মদ, জুয়ার কারণে যুবসমাজ আজ ধ্বংসের পথে এবং এই যুবসমাজই আজ পরিবারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুয়ার কারণে বহু সুখের সংসারে অশান্তি নেমে এসেছে।

আজ আমাদের পারিবারিক কলহ, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় যত বিপর্যয় ও অপরাধ হচ্ছে এর প্রায় সবগুলোর পিছনেই রয়েছে এসবের হাত। এর সবই মানুষকে অপকর্ম ও পাপাচারে নিমগ্ন করে। মানবদেহ থেকে ছিনিয়ে নেয় সুস্থ ও পবিত্র সত্তা। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, ‘শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে। (সুরা মায়েদা:৯১)

একদিকে চারিত্র্যিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবক্ষয় অন্যদিকে দেশের মানুষের ঘামার্জিত টাকা বিদেশে পাচার করে দেশের অর্থনৈতিক ধ্বস নামিয়ে দিচ্ছে তারা । এবং মদ ও জুয়ার আসর বসিয়ে দেশের যুব সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও যথাযথ প্রয়োগ না থাকার দরুন এগুলো ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এ ছাড়া হাদিসেও মদ-জুয়াকে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদপান ও জুয়া খেলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। অন্য হাদীসে আছে, নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তুই হারাম।

অপর হাদিসে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, জুয়া ও লটারিতে অংশগ্রহণকারী, খোটাদানকারী এবং সর্বদা মদপানকারী জান্নাতে যাবে না।

লেখক: হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাহিত্য ও শিক্ষা সম্পাদক